ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পকেট কমিটির অভিযোগে কুমিল্লার এনসিপিতে ভাঙন

২০২৬ জুলাই ২১ ১৫:৩৬:৪৭
পকেট কমিটির অভিযোগে কুমিল্লার এনসিপিতে ভাঙন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলীয় কার্যক্রমে হতাশা, উপজেলা পর্যায়ে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ নানা অভিযোগ তুলে কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একের পর এক পদত্যাগ করছেন নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর স্বাক্ষরে কুমিল্লা উত্তর জেলার ৯৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় গোলাম কিবরিয়া সরকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় রবিউল মনির চৌধুরীকে। তবে গত ১০ জুলাই কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশ উপস্থিতিও নিশ্চিত করা যায়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন মোল্লাসহ ৭-৮ জন নেতা। তাদের অভিযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রমে কমিটি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

গ্রুপে লিখিত বার্তায় মিনহাজুল হক অভিযোগ করেন, কমিটির নেতৃত্বে অদক্ষ ও অযোগ্যদের স্থান দেওয়া হয়েছে, অথচ যোগ্যদের প্রাপ্য মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি আহ্বায়ক পদে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি লেখেন, এই বিতর্কিত আহ্বায়ককে বাদ দিয়ে কমিটি ভেঙে নতুন করে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছেন এবং নিজের পদত্যাগের মধ্য দিয়েই বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

একই সুরে জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, ছয় মাস মেয়াদি কুমিল্লা উত্তর জেলা এনসিপি কমিটির দুই মাস পেরিয়ে গেলেও উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো কমিটিই গঠন করা হয়নি, তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতেও নেওয়া হয়নি কোনো সাংগঠনিক উদ্যোগ। তার ভাষ্য, কমিটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা পকেট কমিটি তৈরির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকলেও উপজেলাগুলোতে সাংগঠনিক সফরে তাদের কোনো তৎপরতা নেই—এসব কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন এনসিপির কুমিল্লা উত্তর জেলা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার। তিনি বলেন, তাদের গ্রুপে লিখিতভাবে মাত্র দুজন পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। কেউ দলের কার্যক্রমে অংশ নিতে ব্যর্থ হলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতেই পারেন, এতে সাংগঠনিক কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই—কেউ যাবেন, কেউ আসবেন, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে