ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পরপর দুই ভূমিকম্পে আতঙ্ক, নতুন সতর্কবার্তা

২০২৬ জুলাই ১১ ০৯:৩৯:৩২
পরপর দুই ভূমিকম্পে আতঙ্ক, নতুন সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমারে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে দেশটিতে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায়ও ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।

এনসিএসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় (আইএসটি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর স্থানাঙ্ক ছিল ২১.৬৯৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৫০৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে (আইএসটি) মিয়ানমারে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পবিদদের মতে, মিয়ানমার বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের একটি। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা ও বার্মা—এই চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ উপকূলজুড়ে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকি বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগাইং ফল্ট। এই সক্রিয় ফাটল রেখার আশপাশেই সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর গড়ে উঠেছে, যেখানে মিয়ানমারের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ বসবাস করে।

গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন মূল ফল্ট লাইন থেকে কিছুটা দূরে হলেও অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে শহরটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অতীতেও ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে সংঘটিত ৭ দশমিক ০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে ইয়াঙ্গুনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাম্প্রতিক এই দুই ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে