ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নতুন পে-স্কেলের গেজেট জুলাইয়ে নয়, জানা গেল সম্ভাব্য নতুন সময়

২০২৬ জুলাই ০৫ ১৭:৪০:৪০
নতুন পে-স্কেলের গেজেট জুলাইয়ে নয়, জানা গেল সম্ভাব্য নতুন সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে এটি প্রকাশ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই গেজেট জারি করতে চায় সরকার। এ কারণেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

তবে গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে গণনা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

গেজেট প্রকাশে বিলম্বের কারণে সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতনের হার, বাস্তবায়নের ধাপ এবং অবসর-সুবিধার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিলম্বের অন্যতম কারণ iBAS++ সফটওয়্যার এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সমন্বয়।

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অনেক কাজ ম্যানুয়ালি করা হলেও বর্তমানে বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও ভুলের ঝুঁকি বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়ন শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি।

এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেন। পরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করলে বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে তার মত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যারের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি পর্যালোচনা করছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে