ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাজারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করল বিএসইসি

২০২৬ জুন ২৩ ২১:২৯:৫৭
বাজারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করল বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন গুজব এবং ব্যাপক বিক্রির চাপে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, বাজারে কোনো ধরনের অযাচিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বরং একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরির চেষ্টা করছে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনে শেয়ারবাজারে যে মাত্রার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে এবং সূচকের যে তীব্র পতন ঘটেছে, তা শুধুমাত্র সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্রির মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের ধারণা, এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। তাই বড় আকারের বিক্রির চাপ কোথা থেকে এসেছে এবং কোন শেয়ারকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

সোমবারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। এছাড়া ব্লু-চিপভিত্তিক ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সামগ্রিক লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য নিম্নগতি দেখা যায়।

ঢাকার বাজারে নেতিবাচক প্রবণতার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৬৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮২ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে, ১৭৪টির কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, বাজারে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে যে নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে, তা নতুন কিছু নয়। ২০১৩ সাল থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি যৌথভাবে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে বাজার পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে বাজারে কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার জন্য তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করছেন।

তবে তার মতে, একদিনে এত বড় বিক্রির চাপ এবং সূচকের তীব্র পতনের পেছনে শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ডিএসইর সার্ভিল্যান্স টিম চাইলে সহজেই শনাক্ত করতে পারবে কোন উৎস থেকে বড় পরিমাণ বিক্রির চাপ এসেছে এবং কোন কোন শেয়ারকে কেন্দ্র করে বাজারে এ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করলে সাম্প্রতিক দরপতনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে