ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

লাইভে এসে বাবার সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কিশোরী

২০২৬ জুন ০৫ ১১:৩৯:৫৭
লাইভে এসে বাবার সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কিশোরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘিতে এক পুলিশ কনস্টেবলের ১৭ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে বাবা দাবি করছেন, তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মামলা করতে গিয়ে তিনি পুলিশি হয়রানি ও ঘুষ দাবির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, মেয়েটি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বাবার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েটির লাইভ ভিডিও প্রকাশের পর মামলার প্রকৃতি ও ঘটনার বাস্তবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নিখোঁজ কিশোরী তসনিয়া রানা তামান্নার বাবা মো. রানা মাসুদ বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল। প্রায় ২২ বছর ধরে তিনি পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার অভিযোগ, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। প্রথমবার নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করতে গিয়ে তিনি নানা জটিলতার মুখোমুখি হন। এমনকি মামলা গ্রহণের আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার কাছে ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রানা মাসুদের দাবি, পরিস্থিতির চাপে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হন। পরে ডিআইজির নির্দেশে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ এবং পরবর্তীতে মামলা রুজু করা হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তামান্না। এরপর তার খোঁজ না পেয়ে বাবা অপহরণের অভিযোগ এনে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে তিনি জবানবন্দিতে জানান, শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে এবং তিনি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন।

তবে তামান্নার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়ে। ডাক্তারি পরীক্ষা ও তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।আদালতের মাধ্যমে বাবার জিম্মায় ফেরার মাত্র একদিন পরই আবার আলোচনায় আসে ঘটনাটি।

গত ১ মে সকালে তামান্না দ্বিতীয়বারের মতো শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। পরে এ ঘটনায় নতুন করে আদালতে আবেদন করলে ৭ মে আদমদীঘি থানায় আরেকটি মামলা রুজু হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।ঘটনায় নতুন মোড় আসে যখন তামান্না নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বক্তব্য দেন।

লাইভে তিনি বলেন, তার নামে দায়ের করা অপহরণের মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং পরিবারের অমতেই তারা বিয়ে করেছেন।

তামান্নার ভাষায়, ‘আমার নামে অপহরণের মামলা দেওয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি নিজের ইচ্ছায় আমার স্বামীর সঙ্গে আছি। পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে নানা অভিযোগ করছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য হয়েও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।কনস্টেবল রানা মাসুদ অভিযোগ করেছেন, দ্বিতীয়বার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ওসি তার কাছে অর্থ দাবি করেন।

তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, ‘ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশের সদস্যের মেয়ে মানে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। তারপরও তিনি মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।’

মেয়েকে উদ্ধার করতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে রানা মাসুদ বলেন, ‘আমি নিজে পুলিশ সদস্য হয়েও যদি বিচার না পাই, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবে?’

তিনি বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং মেয়েকে উদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন।

তার দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে মেয়েকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।ঘটনাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে তামান্নার বয়স। কারণ তিনি নিজেকে বিবাহিত এবং স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে থাকার দাবি করলেও আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে বৈধ নয়।

ফলে এটি শুধুমাত্র পারিবারিক বিরোধ নাকি নাবালিকা সংশ্লিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধ—সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তদন্ত, বয়স যাচাই এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

এদিকে মেয়েটির লাইভ ভিডিও প্রকাশ এবং বাবার ধারাবাহিক অভিযোগের কারণে ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে