ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সন্তানদের অবহেলায় মৃত্যু? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ভিন্ন চিত্র

২০২৬ জুন ০৪ ১৮:১৭:৪১
সন্তানদের অবহেলায় মৃত্যু? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, তিনি দীর্ঘদিন আগে মারা গিয়েছিলেন এবং সন্তানদের অবহেলার কারণে তার মরদেহ পচে গিয়েছিল। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে এসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নূর জাহান বেগম জীবনের শেষ দুই বছর তার মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা নিয়মিত তার খোঁজখবর নিতেন এবং আর্থিক সহায়তাও করতেন। এমনকি মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ময়নাতদন্ত-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, মরদেহে ব্যাপক পচন ছিল না। বরং তার শরীরে বিশেষ করে পিঠের অংশে ‘বেডসোর’ বা শয্যাক্ষত ছিল, যা দীর্ঘদিন একই অবস্থায় শুয়ে থাকা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। শরীরে পাওয়া কিছু পোকা বা ক্ষতের কারণও এই শয্যাক্ষতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন।

ফ্ল্যাটটির নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু নূর জাহান বেগমের কক্ষ নয়, পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থাই ছিল অগোছালো। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তার মেয়ে খুব কম মানুষের সঙ্গে মিশতেন এবং নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রেখেছিলেন। পরিবারের একজন সদস্যও স্বীকার করেছেন যে ফ্ল্যাট পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

এ ঘটনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য মানসিক জটিলতার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, নূর জাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণ আচরণ করতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের লক্ষণ কিছু মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তবে মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে সামাজিক বিচার শুরু করা উচিত নয়। তাদের মতে, একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সমাজে নতুন ধরনের অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে