ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

মমতার পরাজয়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৬ মে ০৫ ১১:৩৩:০৫
মমতার পরাজয়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় দশক পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে এবং ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

সোমবার (৩ মে) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বলে জানানো হয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮ আসন। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮২টি আসন। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের আঞ্চলিক ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে, কারণ দিল্লির নীতির সঙ্গে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, পুশব্যাক এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি—এই ইস্যুগুলোতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এতদিন তিস্তা চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হলেও এখন সেই অবস্থায় পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, বিধানসভায় পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে প্রভাবিত হবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তিতে আগের বিরোধিতাকে কেন্দ্রীয় সরকার অনেক সময় অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে, এখন তাদের অবস্থান কী হয় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে মূল ভূমিকা কেন্দ্রীয় সরকারের। তবে সীমান্তে চাপ বা পুশব্যাকের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স মনে করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের স্বার্থে অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক এবং উভয় পাশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রভাব ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে তিস্তা ইস্যুতে নতুন উদ্যোগ নিতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের সীমান্ত ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার এই পরিবর্তন শুধু একটি আঞ্চলিক ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর করবে পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে