ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

স্যানিটারি প্যাডসহ পিরিয়ড পণ্য নিষিদ্ধ করল যে দেশ

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৭:০৮:২৫
স্যানিটারি প্যাডসহ পিরিয়ড পণ্য নিষিদ্ধ করল যে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশজুড়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ পিরিয়ড পণ্য বিতরণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারের দাবি, এসব পণ্য নাকি বিদ্রোহীরা চিকিৎসা ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জান্তা সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করতে “ফোর কাটস” কৌশল গ্রহণ করে। এই কৌশলের মাধ্যমে খাদ্য, অর্থ, তথ্য ও জনবল সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই প্রথমে কিছু এলাকায় প্যাড পরিবহন সীমিত করা হয়, পরে তা বিস্তৃত হয়ে দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।

সাগাইং ও মান্দালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পিরিয়ড পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এর ফলে সাধারণ নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী নাকি স্যানিটারি প্যাড আহতদের রক্ত বন্ধ করা বা জুতার ভেতরে ব্যবহার করছে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে নারীদের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক নারী এখন বাধ্য হয়ে পুরোনো কাপড়, গাছের পাতা কিংবা কাগজ ব্যবহার করছেন। এতে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) ও প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং নারীদের সামাজিক ও চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার একটি কৌশলও হতে পারে। পিরিয়ড চলাকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য না থাকায় অনেক নারী ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে কালোবাজারে স্যানিটারি প্যাডের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এক প্যাকেট প্যাডের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেক শ্রমিকের দৈনিক আয়ের চেয়েও বেশি।

বর্তমানে মিয়ানমারে প্রায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে। সেখানে পর্যাপ্ত পানি ও স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি নারীদের মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের নারী জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে