ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইয়াজুজ-মাজুজের রহস্যময় প্রাচীরের অবস্থান

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৮:৩০:৫৩
ইয়াজুজ-মাজুজের রহস্যময় প্রাচীরের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় ইয়াজুজ ও মাজুজ। পবিত্র কোরআনে বাদশা জুলকারনাইনের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রাচীর নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে, যা এই অবাধ্য জাতিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আধুনিক বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তির এতো উন্নতির পরও কেন সেই প্রাচীরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না—এ নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক কৌতুহল।

কোরআনের বর্ণনা:সূরা কাহাফের ৯৩ থেকে ৯৮ নম্বর আয়াতে জুলকারনাইনের এই প্রাচীর নির্মাণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। জুলকারনাইন যখন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এক স্থানে পৌঁছান, তখন সেখানকার অধিবাসীরা ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচার থেকে বাঁচতে একটি প্রাচীর তৈরির অনুরোধ করেন। জুলকারনাইন লোহার পাত স্তরে স্তরে সাজিয়ে এবং গলিত তামা ঢেলে একটি অত্যন্ত মজবুত ও অভেদ্য প্রাচীর তৈরি করেন। জুলকারনাইন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে (কিয়ামতের আগে) এই প্রাচীর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

ইয়াজুজ-মাজুজের এই প্রাচীরের অবস্থান নিয়ে কয়েকটি প্রধান মতবাদ প্রচলিত আছে:

১. কাস্পিয়ান সাগর ও ককেসাস অঞ্চল: অনেক ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, বাদশা জুলকারনাইন নির্মিত এই দেয়াল কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত দরিয়াল এবং ডারবেন্ট শহর দুটির মাঝে হতে পারে। রাশিয়ার কাসবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত থেকে জর্জিয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের বিস্তৃতি। এই প্রাচীরটি ‘ককেসাস প্রাচীর’ নামেও পরিচিত।

২. চীনের মহাপ্রাচীর: কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, চীনের মহাপ্রাচীরই সেই প্রাচীর। তবে চীনের মহাপ্রাচীর পাথর ও ইটের তৈরি, কিন্তু জুলকারনাইনের প্রাচীর ছিল লোহা ও তামার। ফলে বর্ণনার সাথে অমিল থাকায় এটি অনেক গবেষক নাকচ করে দিয়েছেন।

৩. অরুণাচল ও পার্বত্য অঞ্চল: আল্লামা হিফজুর রহমান সিউহারভী তার ‘কাসাসুল কোরআন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াজুজ-মাজুজের দৌরাত্ম্য বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ছিল। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক রক্ষা প্রাচীর থাকতে পারে।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, প্রাচীরটি খুঁজে না পাওয়া মানেই এর অস্তিত্ব নেই এমনটি নয়। তারা মনে করেন:প্রাচীরটি কোনো পর্বতমালা বা হিমবাহের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।বিশাল কোনো জলরাশি বা দুর্গম তুষারাবৃত অঞ্চলের আড়ালে এটি এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে আছে।

কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়াজুজ ও মাজুজ যখন এই প্রাচীর ভেদ করে বেরিয়ে আসবে, তখনই এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।

ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে যে বর্ণনা এসেছে, তা এক অকাট্য সত্য। কিয়ামতের প্রাক্কালে তারা উচ্চভূমি থেকে পঙ্গপালের মতো ছুটে আসবে এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তাই এই রহস্য নিয়ে তর্কে না জড়িয়ে কিয়ামতের প্রস্তুতির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে