ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নেগেটিভ ইক্যুইটি: ৩ ব্রোকারের সময় আবেদন বাতিল, রিভিউতে ২টি

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৪:৪৪:৩৮
নেগেটিভ ইক্যুইটি: ৩ ব্রোকারের সময় আবেদন বাতিল, রিভিউতে ২টি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নেগেটিভ ইক্যুইটি ইস্যুতে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের সময় বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাদের দ্রুত প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একইসঙ্গে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। আবেদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বি অ্যান্ড বি এসএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং এলিগ্যান্ট স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। অন্যদিকে, আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে পুনরায় পরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য পূর্বে জমা দেওয়া পরিকল্পনাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ আবার জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে সুদসহ নেগেটিভ ইক্যুইটির হিসাবের বিস্তারিত তথ্যও উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, তাদের জমা দেওয়া বোর্ড অনুমোদিত পরিকল্পনা পর্যালোচনার পর তা গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় কমিশন আবেদন নামঞ্জুর করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনে নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টে কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। সংগঠনটির মতে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে সক্রিয় হতে উৎসাহিত হবেন।

একই সময়ে, ২১টি ব্রোকারেজ হাউস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগেটিভ ইক্যুইটি সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। যা ২০২৫ সালের ১৪ মে জারি করা নির্দেশনার পরিপন্থী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও দায় নির্ধারণসহ ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতির ফলে সৃষ্ট নেগেটিভ ইক্যুইটি দেশের শেয়ারবাজারের বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৫১ কোটি ৮৬ হাজার টাকায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ না হলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাজারের স্থিতিশীলতাও ব্যাহত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কমিশন সভায় একাধিক ব্রোকারেজ হাউসকে শর্তসাপেক্ষে সময় বাড়িয়ে দিয়েছিল বিএসইসি। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছে, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে