ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দেড় মাসেই টাকার বড় ধাক্কা! ডলার আরও শক্তিশালী

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১১:৩২:২১
দেড় মাসেই টাকার বড় ধাক্কা! ডলার আরও শক্তিশালী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে গত দেড় মাসে টাকার মানে ধীরগতির কিন্তু ধারাবাহিক অবনতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দর প্রায় ৪৫ পয়সা বেড়েছে।এর অর্থ, একই পরিমাণ ডলার কিনতে এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে—যা টাকার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ২ মার্চ প্রতি ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। ওই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্রয় করে। সে সময় বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল আন্তঃব্যাংক লেনদেন শেষে প্রতি ডলারের দর দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ দেড় মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। এর আগে ১৫ এপ্রিল নিলামের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে।চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫,৬১৩.৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ডলারের দর ১২২.৭৫ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই এই দামে ডলার কেনা হচ্ছে। রেমিট্যান্স সংগ্রহেও সর্বোচ্চ ১২২.৯০ টাকা পর্যন্ত দরের মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে পরিস্থিতিও ডলারের ওপর চাপ তৈরি করেছে।প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রফতানি আয় ডলারের সরবরাহ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। ফলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা খুব বেশি উদ্বেগজনক না হলেও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। টাকার মান কমতে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় শক্তিশালী থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অন্যথায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আরও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে