ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

অনিয়মে এনবিএল সিকিউরিটিজকে জরিমানা বিএসইসির

২০২৬ এপ্রিল ১২ ০০:০৫:৫৭
অনিয়মে এনবিএল সিকিউরিটিজকে জরিমানা বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মোট জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ সংরক্ষণে ব্যর্থতা, অনুমতি ছাড়া লেনদেন সম্পাদন, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং পেশাগত অসদাচরণের মতো একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আবু সালেহ নামের এক বিনিয়োগকারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে যায়। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গাফিলতি।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০ এর বিধি ৩(১) লঙ্ঘনের জন্য ৮ লাখ টাকা, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্বের জন্য ১ লাখ টাকা এবং পেশাগত অসদাচরণের জন্য আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই ঘটনায় কোম্পানির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়েদ আল মামুন হাসানকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অননুমোদিত লেনদেনের দায়ে ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য বিধি লঙ্ঘনের জন্য ২ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।

এছাড়া তৎকালীন ব্যবস্থাপক আহমেদ ইফতেখার শহীদ এবং প্রধান অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে পৃথকভাবে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং লেনদেনের নির্দেশ সংরক্ষণ না করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি এবং পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না করা এবং পেশাগত স্বচ্ছতার অভাবকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় যেকোনো অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে