ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

আগামী পাঁচ মাসেও নতুন আইপিও-র সম্ভাবনা ক্ষীণ

২০২৬ এপ্রিল ০৩ ০৬:৫৮:৩৩
আগামী পাঁচ মাসেও নতুন আইপিও-র সম্ভাবনা ক্ষীণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংশোধিত পাবলিক ইস্যু বিধিমালার কারণে অন্তত আরও পাঁচ মাস নতুন কোনো আইপিও প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও কোম্পানিগুলোর আগ্রহ এখনও সীমিত।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি বার্ষিক, অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে আইপিও আবেদন করতে পারে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন দিয়েই প্রস্তাব জমা দেয়।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার আবেদন করেনি।

সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, অর্থবছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে কোম্পানিগুলো আইপিও প্রস্তাব জমা দিতে পারবে। সে হিসেবে ক্যালেন্ডার বছর অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ এপ্রিল।

তবে ইস্যু ব্যবস্থাপকদের মতে, এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আইপিও প্রস্তাব জমা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

একটি অর্থবছর শেষ হওয়ার পর আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগে। এরপর তা নিরীক্ষা ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পেতে আরও সময় প্রয়োজন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সাধারণত দুই মাসের কম সময় লাগে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক মাসের মধ্যে নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে ২০২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দিয়ে আইপিও আনতে হলে কোম্পানিগুলোকে আরও অন্তত পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

আগের নিয়মে আইপিও অনুমোদন পেতে অনেক সময় লাগত। কিছু ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে অনুমোদন পেতে।

নতুন বিধিমালায় এই প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ, ইস্যু ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে আইপিও প্রস্তাব গ্রহণ বা বাতিল করবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ৪০ দিনের মধ্যে এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৫৩ দিনের মধ্যে আইপিও অনুমোদন বা বাতিলের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি থাকলে কোম্পানিগুলো এখন বেশি প্রিমিয়াম দাবি করতে পারবে। আগের নিয়মে মূল্য নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ন্যায্য মূল্যায়ন পেত না বলে অভিযোগ ছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে তালিকাভুক্তির পথে থাকা জটিলতা ও বিলম্ব দূর করা যায়। এতে একাধিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

তবুও এখন পর্যন্ত নতুন নিয়মে কোনো কোম্পানি আইপিও প্রস্তাব জমা দেয়নি, যা বাজারের স্থবিরতা নির্দেশ করছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে টেকনো ড্রাগস আইপিও প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর থেকে আর কোনো নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসেনি।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে