ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করতে আসছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা

২০২৬ এপ্রিল ০১ ০০:৫২:১১
৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করতে আসছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ছয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চলতি বছরের জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর বলেন, “ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জুলাই মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, অর্থ বিভাগ তাদের জানিয়েছে যে অর্থ দুটি ধাপে ছাড় করা হবে। প্রথম ধাপে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে জুন মাসের মধ্যে আরও ৩,০০০ কোটি টাকা ছাড় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রথম কিস্তির অর্থ হাতে পেলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে বেসরকারি খাতের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া। প্রথমে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা হবে, এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।”

এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। একই বৈঠকে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়।

অবসায়নের জন্য নির্ধারিত ছয়টি এনবিএফআই হলো— ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

আর সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বর্তমানে দেশে ৩৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ২০টিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই ২০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫,৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১,৪৬২ কোটি টাকা বা প্রায় ৮৩.১৬ শতাংশ খেলাপি। বিপরীতে জামানতের মূল্য মাত্র ৬,৮৯৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৩১ শতাংশ। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান ১,৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬,১৮৯ কোটি টাকা।

দুর্বল ২০টি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ২২,১২৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে নিট ব্যক্তিগত আমানতের পরিমাণ প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, অবসায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রাথমিকভাবে এই অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে