ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

ইসলামী ব্যাংকের সংকট কাটাতে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের

২০২৬ এপ্রিল ০১ ০০:৪৯:৪৬
ইসলামী ব্যাংকের সংকট কাটাতে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আজ (৩১ মার্চ) ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ব্যাংকটি বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করে এবং গভর্নর ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবাইদুর রহমান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে চেয়ারম্যান শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাওনার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং দ্রুত তা আদায়ের দাবি জানান। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কাছেও ব্যাংকটির বকেয়া অর্থ রয়েছে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাওয়া হয়েছে। বড় ঋণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রভিশনিংয়ে নিয়ন্ত্রক ছাড় এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় দিকনির্দেশনাও চাওয়া হয়।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গভর্নর ব্যাংকের কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বিষয়গুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করে তার স্থলে হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেয়।

২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ইসলামী ব্যাংক কার্যত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সময়ে বিভিন্ন নামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয় এবং প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকটিকে গভীর সংকটে ফেলে।

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় এবং কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে চলে যান। পুনর্গঠিত বোর্ডে মো. আবদুল জলিলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির বৈঠকটি ছিল গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক। প্রথম বৈঠকে তিনি বলেন, একসময় ইসলামী ব্যাংক শক্তিশালী ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতা দেখা দেয়। তিনি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন এবং জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক গোষ্ঠী, দল বা পরিবারের স্বার্থে ব্যাংক পরিচালিত হতে পারে না।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ৮টি ব্যাংকের মধ্যে ৪টি থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জানায়, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯৩ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঋণ নেয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে