ঢাকা, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে টাকা ফেরত পেতে বিলম্ব, বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ মার্চ ২৫ ১৯:৫৩:১১
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে টাকা ফেরত পেতে বিলম্ব, বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্লোজড-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড সময়মতো ওপেন-এন্ডে রূপান্তর বা লিকুইডেশন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পেতে দেরির সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ আটকে থাকছে এবং অর্থের কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।

এমন একটি উদাহরণ হলো এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, যা গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের কথা থাকলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত সপ্তাহে এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।

ফান্ডটির একজন ইউনিটহোল্ডার শেয়ারনিউজ-কে জানান, গত বছরের অক্টোবরে ট্রাস্টি ইউনিটহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এই বিলম্বের কারণে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এবং তাদের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা ঠিক করতে পারছেন না।

এদিকে ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনও কমিশনের সম্মতিপত্র পাননি। সেটি হাতে পেলেই দ্রুত রূপান্তর প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

অন্যদিকে এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড-এর ইউনিটহোল্ডারদের বিনিয়োগ ফেরত পেতে ছয় মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সাধারণত ফান্ড লিকুইডেশন সম্পন্ন হলে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পান, আর ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের পর নির্দিষ্ট শর্তে টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকে।

বিজিআইসির এক কর্মকর্তা জানান, ফান্ড রূপান্তর বা লিকুইডেশনের অনুমোদন দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক সময় নেয়। নানা প্রশ্ন তোলা ও জনবল সংকটও বিলম্বের একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বিএসইসির। তবে ট্রাস্টিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউনিটহোল্ডারদের সভা আয়োজন করে প্রস্তাব জমা দিতে হয়।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ফান্ড রূপান্তর বা লিকুইডেশনের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, অডিট রিপোর্ট ও সম্পদের মূল্যায়ন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে হিসাবের অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াকে সময়সীমার মধ্যে আনতে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা রূপান্তর, লিকুইডেশন এবং ফান্ড একীভূতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করবে।

সংশোধিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, নোটিশ দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সভা করতে হবে। সেখানে উপস্থিত ইউনিটহোল্ডারদের তিন-চতুর্থাংশের ভোটে ফান্ড লিকুইডেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন লিখিত সম্মতি দিলে সাত দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে হবে।

এদিকে সংশোধিত বিধিমালায় ফান্ড একীভূতকরণের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে, যা গত নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে একই অ্যাসেট ম্যানেজারের অধীনে থাকা ছোট আকারের একাধিক ফান্ড একীভূত করা গেলে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং সম্পদের কার্যকারিতা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সংস্কার কার্যকর হলে ফান্ড ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিও আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে