ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের আর্থিক অনিয়ম, বিএসইসির তদন্ত শুরু

২০২৬ মার্চ ১৮ ১৬:৫৯:২৯
লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের আর্থিক অনিয়ম, বিএসইসির তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনি পরিপালন নিশ্চিতে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে নেগেটিভ ইকুইটি বা বাস্তবায়িত ক্ষতি থাকা সত্ত্বেও ডিভিডেন্ড ঘোষণা বা বিতরণ করেছে কি না। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু হিসাবে অস্বাভাবিক হারে সুদ আরোপ এবং মার্জিন রুলস ভেঙে ঋণ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো 'ইন্টারেস্ট সাসপেন্স' বা স্থগিত সুদ হিসাবের বৈধতা। বিএসইসির তথ্যমতে, মাত্র ৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মূলধনের বিপরীতে ১৭ কোটি ৯ লাখ টাকার বিশাল অংকের সুদ স্থগিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অংকের কোনো যথাযথ লেজার সাপোর্ট বা অডিট করা আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। কমিশনের মতে, নথিপত্রহীন এই হিসাবটি প্রকৃত আয় কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ রয়েছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সকে প্রদেয় প্রায় ১০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সুদ সম্ভবত হিসাবে আনা হয়নি। এর ফলে কোম্পানির মুনাফা এবং সংরক্ষিত আয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি প্রয়োজনীয় প্রোভিশনিং বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তাও তদন্তের পরিধিতে রাখা হয়েছে।

তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে, নেগেটিভ ইকুইটি সম্পন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে শেয়ার লেনদেন, আইপিও আবেদন কিংবা পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে কি না। এছাড়া বৈধ চুক্তি ছাড়া বা ঝুঁকি সীমা লঙ্ঘন করে মার্জিন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং গ্রাহকদের ওপর আইনবিরুদ্ধভাবে ফি বা সুদ আরোপ করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করবে কমিশন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বোর্ড এবং ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার কোনো গাফিলতি বা তদারকির অভাব ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবসিডিয়ারি হিসেবে ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই মার্চেন্ট ব্যাংকটি দেশের শেয়ারবাজারে অত্যন্ত পরিচিত। আইপিও ব্যবস্থাপনা, বন্ড ইস্যু এবং কর্পোরেট অ্যাডভাইজরিতে তাদের বিশেষ ভূমিকা থাকলেও এই তদন্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে