ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে নতুন স্বপ্ন: নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবি তুঙ্গে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৭:৩৮:২৬
শেয়ারবাজারে নতুন স্বপ্ন: নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবি তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারবাজারেও নতুন প্রত্যাশার হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে কি না—এ নিয়ে বিনিয়োগকারী, ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে। বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের দায়িত্বে থাকা না-থাকা প্রশ্নে বাজার সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। যদিও তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠেনি, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের স্থবিরতা এবং গত দেড় বছরে একটিও নতুন আইপিও বাজারে আনতে না পারা তার নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক পতন, লেনদেনের খরা এবং আস্থাহীনতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন চরম হতাশায় ভুগছেন। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচক ও লেনদেন বহুবার তলানিতে নেমেছে। এক সময় যে বাজারে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো, সেখানে এখন অনেক দিনই লেনদেন সীমিত পরিসরে আটকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বাজার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। গত দেড় দশকে সৃষ্ট নানামুখী সংকট—দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি, কারসাজি, সুশাসনের ঘাটতি ও নীতিনির্ধারণে অস্থিরতা—এসব কাটাতে শক্ত হাতে নেতৃত্ব প্রয়োজন।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী শেয়ারবাজারের সংস্কার ও আস্থা ফেরাতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পেশাদার ও স্বার্থের সংঘাতমুক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জোসেফ পি. কেনেডি সিনিয়র এবং ভারতের জি. এন. বাজপাই -এর মতো ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা বাজার সংস্কারে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ মনে করেন, কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান বা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দিয়ে পুঁজিবাজারের জটিল সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা আমলাদের নিয়োগ ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে—যার ফলে সুশাসন ও নীতির ধারাবাহিকতায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন বাজার সংশ্লিষ্টরা করপোরেট ব্যাকগ্রাউন্ডসম্পন্ন, পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেমে দীর্ঘদিন কাজ করা অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের নেতৃত্বে দেখতে চান। তাদের বিশ্বাস, বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী নীতিমালা ছাড়া আস্থার সংকট কাটবে না।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ভালো নেতৃত্বের পাশাপাশি বাজারে মানসম্মত কোম্পানি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি নিশ্চিত করাও জরুরি। শক্তিশালী আইপিও পাইপলাইন, বন্ড মার্কেটের সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং কর নীতির স্বচ্ছতা—এসব বিষয়ও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে নতুন নেতৃত্ব এলে তাকে কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশল নিয়েও এগোতে হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সরকার যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে, তবে শেয়ারবাজারে নতুন স্বপ্নের সূচনা হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাজারকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে