ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ঢাকা-দিল্লির ‘সেতু’ গড়তে চায় ওয়াশিংটন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৮:৪২:৫২
ঢাকা-দিল্লির ‘সেতু’ গড়তে চায় ওয়াশিংটন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটন চায় এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আবারও একটি মজবুত ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠুক, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এসব কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা উন্নত ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মূলত চীনা সামরিক সরঞ্জামের ওপর ঢাকার নির্ভরতা কমাতে বিকল্প হিসেবে এই প্রস্তাব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় চীনের ড্রোন কারখানা নির্মাণ এবং পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ঢাকাকে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ তাদের আধুনিকায়নের জন্য পশ্চিমা প্রযুক্তির দিকে নজর দিক।

বাণিজ্যিক কূটনীতিকেও এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে শেভরন ছাড়া বড় কোনো মার্কিন কোম্পানির অনুপস্থিতি এবং স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের অভাবের পেছনে উচ্চ কর ও লভ্যাংশ স্থানান্তরের জটিলতাকে দায়ী করেন তিনি। আগামী সরকার যদি একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা দেয়, তবে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগে নতুন জোয়ার আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ক্রিস্টেনসেন মনে করিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই শরণার্থীদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম দাতা দেশ। জাতিসংঘের মাধ্যমে গঠিত ২ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিলের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে ব্যয় করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এককভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে এই বিশাল ব্যয়ভার বহন করা কঠিন। তাই তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যান্য দাতাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে