ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভোট দেওয়া ফরজ নাকি ঐচ্ছিক, যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:০৭:০৬
ভোট দেওয়া ফরজ নাকি ঐচ্ছিক, যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সময়ে দেখা যায়, আমাদের আশপাশের অনেক মানুষ ভোট দিতে যান না। এ বাস্তবতায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ভোট না দিলে কি গোনাহ হবে? ইসলামের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তা জানা জরুরি।

ইসলাম কেবল নামাজ-রোজা বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং ইসলাম একটি সর্বকালীন, পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তব জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, আইন-কানুন, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ইসলাম যেমন মানুষকে আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়, তেমনি দুনিয়ার জীবন পরিচালনার জন্যও দিয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা। সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব নির্বাচন ও শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইসলামের আলোকে ভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, ঘুষখোর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, মিথ্যাবাদী, ধর্মের প্রতি উদাসীন কিংবা খোদাদ্রোহী ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসার সুযোগ নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ইমান-আমল, জ্ঞান ও চরিত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি, তেমনি প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তির সৎ ও যোগ্য হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে ভোট না দিলে কি গোনাহ?

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক আলোচনায় বলেন, যদি কারও কাছে কোনো প্রার্থী উপযুক্ত মনে না হয় অথবা নিরাপদ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ না থাকে, তাহলে ভোট না দিলে গোনাহ হবে না।

তিনি আরও বলেন, ভোট দেওয়া ফরজ কিংবা ওয়াজিব নয়। তবে কেউ যদি ভোট দেয়, তাহলে তা অবশ্যই দায়িত্বশীলতা ও আমানতদারিতার সঙ্গে দিতে হবে—যাতে দ্বীন, রাষ্ট্র ও মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় থাকে। আবার ভোট না দেওয়ার কারণে যদি কোনো অন্যায় ব্যক্তি সুবিধা পায়, তবে সেটিও অনুচিত হতে পারে। অর্থাৎ, ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হতে পারে, তা বিবেচনা করাই মূল বিষয়।

ভোট ও সাক্ষ্যের বিষয়টি কীভাবে দেখেছে ইসলাম

ইসলামি দৃষ্টিতে ভোটের মধ্যে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ এবং প্রতিনিধিত্বের সনদ দেওয়া। এর মধ্যে ‘শাহাদত’ বা সাক্ষ্যের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো—তার যোগ্যতা ও সততার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া। যথাযথ ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হলে তা হবে সত্য সাক্ষ্য, আর অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হলে তা হবে মিথ্যা সাক্ষ্য।

মিথ্যা সাক্ষ্য যে কত বড় কবিরা গোনাহ, তা সুস্পষ্টভাবে ইসলাম নিষেধ করেছে। এ বিষয়ে মাসিক আল কাউসার-এও বিশদ আলোচনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘যে ব্যক্তি সৎ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার সওয়াবের অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার পাপের অংশ পাবে।’ (সূরা নিসা : ৮৫)

আরেক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,‘হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং ন্যায়সংগত সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজের, পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধেই হয়।’ (সূরা নিসা : ১৩৫)

সহিহ বোখারির এক হাদিসে হজরত আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন—সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (বোখারি : ৬৯১৯)

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে