ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যার সত্যতা প্রকাশ  

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৫৮:১১
গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যার সত্যতা প্রকাশ  

নিজস্ব প্রতিবেদক : লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তার মৃত্যুর স্থান ও পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসছে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল লিবিয়ার জিনতান শহরে তার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা দ্রুত অভিযান শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে লিবিয়ান নিউজ এজেন্সির বরাতে সাইফ আল ইসলামের রাজনৈতিক দলের প্রধানও মঙ্গলবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, সাইফ আল ইসলামের বোন লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ভিন্ন দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিনতান শহরে নয়, বরং আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে ভ্রমণের সময় সাইফ আল ইসলাম নিহত হন। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে একসময় তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গাদ্দাফি শাসনামলে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন।

২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর সাইফ আল ইসলাম প্রায় ছয় বছর জিনতানে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক ছিলেন। বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিচার দাবি করেছিল। পরে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে পূর্বাঞ্চলে জারি করা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তিনি পরবর্তীতে মুক্তি পান।

গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। গাদ্দাফির শাসনামলে সাইফ আল ইসলাম অনানুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার মাধ্যমেই লিবিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে