ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

কারখানায় তালা, হিসাবে গরমিল: মহাবিপাকে অ্যাপেক্স উইভিং

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৫:৫২:৫৮
কারখানায় তালা, হিসাবে গরমিল: মহাবিপাকে অ্যাপেক্স উইভিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত দুই অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়ায় এর গভীরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্পোরেট রিপোর্টিং বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিফ রেগুলেটরি অফিসারের কাছে এই তদন্ত পরিচালনার জন্য সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির পাঠানো ওই চিঠিতে অ্যাপেক্স উইভিংয়ের আর্থিক হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিরীক্ষকদের দেওয়া মতামতকে অত্যন্ত উদ্বেগের বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ অর্থবছরের হিসাবে নিরীক্ষক তিনটি ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ এবং একটি ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ দিয়েছেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ অর্থবছরের হিসাবেও ছিল ‘ডিসক্লেইমার অব ওপিনিয়ন’, যার অর্থ নিরীক্ষক নথিপত্রের অভাবে সঠিক মতামতে পৌঁছাতে পারেননি। এসব নেতিবাচক মতামতের পেছনে আসল কারণ কী এবং এর মাধ্যমে কোনো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই বিশেষ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ডিএসইর রেগুলেটরি বিভাগকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসি চায়, এই আর্থিক অসংগতির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কারা দায়ী—তা দ্রুত চিহ্নিত করা হোক। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব কিংবা নিরীক্ষক—যাদেরই আইন অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের অভিযুক্ত করে ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে এমন প্রশ্নবিদ্ধ অডিট রিপোর্ট সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

কোম্পানিটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইপিও’র মাধ্যমে তারা প্রায় ২৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থতা ও উৎপাদন বন্ধের কারণে ২০০৯ সালে তাদের ওটিসি মার্কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কারখানাটির করুণ দশা; গত বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা এই কারখানাটি বন্ধ রাখার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিলের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক 'কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন' থাকার অর্থ হলো সেই হিসাবের ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। বিএসইসির এই কঠোর পদক্ষেপ কেবল অ্যাপেক্স উইভিং নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে একদিকে যেমন অপরাধীরা চিহ্নিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে