ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এপস্টেইনের ইমেইলে কী লেখা ছিল? জানুন আসল কাহিনী

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১০:২৫:৪০
এপস্টেইনের ইমেইলে কী লেখা ছিল? জানুন আসল কাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্ব রাজনীতি ও করপোরেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গোপন ইমেইল ও বার্তাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ফাঁস হওয়া নথি।

নথিতে উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক ও বিল গেটসের নাম থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু (অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর), সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরসংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর দাবি। ইতোমধ্যে এই কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগ করেছেন স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

মাস্ক ও গেটসকে ঘিরে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, বিল গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং এপস্টেইনের কাছে মাদক সরবরাহের অনুরোধ করেছিলেন। তবে গেটস ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, ইমেইল আদান-প্রদানের তথ্যে দেখা যায়, ইলন মাস্ক ২০১২–১৩ সালের দিকে এপস্টেইনের দ্বীপে অনুষ্ঠিত একটি পার্টিকে ‘সবচেয়ে বন্য পার্টি’ হিসেবে উল্লেখ করে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও মাস্ক এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, এসব প্রকাশের পরও প্রকৃত অপরাধীরা এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।

খাসোগি হত্যায় এমবিজেড জড়িত থাকার দাবি

২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর এপস্টেইনের পাঠানো এক বার্তায় দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) এই ঘটনাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন এই হত্যাকাণ্ডকে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখতেন এবং দাবি করেছিলেন, একটি ভিডিও ফুটেজ হ্যাক করার মাধ্যমে তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এফবিআইয়ের একটি মেমোতে বলা হয়, এপস্টেইনের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

মোদি প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিক্রিয়া

এপস্টেইনের ইমেইল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ওঠা দাবিগুলো কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে এক দণ্ডিত অপরাধীর ‘ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

নথিতে দাবি করা হয়, মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি ২০১৯ সালে মোদির সঙ্গে রিপাবলিকান কৌশলী স্টিভ ব্যাননের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে এপস্টেইন মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিজেপি সরকার অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেও বিরোধী দল কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। নথিতে ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নামও উঠে এসেছে।

স্লোভাকিয়ায় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ

নথিতে স্লোভাকিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকাকের সঙ্গে এপস্টেইনের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বার্তায় নারী ও কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে হালকা কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। এর জেরে লাজকাক পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও ঘটনাটিকে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

ভুক্তভোগী এক নারীর আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস বিবিসিকে জানিয়েছেন, ২০১০ সালে এপস্টেইন ওই নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার উদ্দেশ্যে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি অ্যান্ড্রুর তৎকালীন বাসভবন ‘রয়্যাল লজ’-এ ঘটে। ওই নারী জানান, রাত কাটানোর পর প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাঁকে বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখান ও চা পান করান। এর আগেও ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামের এক নারী একই ধরনের অভিযোগ এনেছিলেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে