আওয়ামীপন্থিদের লুটপাটে উত্তরা ফাইন্যান্সের বেহাল দশা
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। লাভজনক অবস্থায় থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কব্জায় নেন আওয়ামীপন্থীরা। ক্ষমতাশীনদের থাবায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় লুটপাটকারীদের হাতে। যার ফলে এক সময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানিটির এখন বেহাল দশা দেখা দিয়েছে।
এ বেহাল দশার মূল আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতসহ কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের হস্তক্ষেপে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদে বসানো হয় সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তাকে। যিনি একসময় শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সদ্য পদত্যাগী এমডি সৈয়দ মিনহাজ আহম্মেদ-এর সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির আখড়ায় পরিণত হয়। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে পরিচালনা হওয়া প্রতিষ্ঠানটির আয় একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যার জন্য দায়ী পর্যদের চেয়ারম্যান ও সদ্য পদত্যাগ করা এমডি।
এক সময়ে খুব ভালো অবস্থানে থাকা উত্তরা ফাইন্যান্সের বর্তমান করুণ দশা তুলে ধরে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বরারর অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেকে। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান কমকর্তাদের বলছেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি ও দলীয় নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম একমাত্র উত্তর ফাইন্যান্সে। সেখানে এখনো শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন।
সূত্র বলছে, গত দেড় বছরে উত্তরা ফাইন্যান্সে পূর্বে দেওয়া কোনো ঋণ ফেরত আসেনি। বরং ঋণ আদায় না করে ঋণের বিপরীতে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে যারা প্রতিষ্ঠানটিকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন তাদের বাদ দিয়ে বেশি বেতনে নতুন অন-অভিজ্ঞ লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা একটিও এজিএম করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব অজানা রয়ে গেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ফিরে পেতে চান। এ ব্যাপারে উদ্যোক্তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগ বিষয়ে বর্তমান পর্ষদের কেউ মিডিয়ায় কথা বলতে রাজি হননি।
সুদিন হারিয়েছে উত্তরা ফাইন্যান্স
বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড একটি অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স পেয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে অতি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিক অধিকাংশ শেয়ার হোল্ড করেন যারা তাদের পরিচালনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও বোনাস শেয়ার দিয়ে সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছিল। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি এ+ গ্রেডের প্রতিষ্ঠান হিসাবে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাজস্বখাতে সর্বোচ্চ করদাতা হিসাবে জাতীয় রাজস্ববোর্ড থেকে পরপর চারবার শ্রেষ্ট করদাতা ভূষিত হয়েছিল। নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করে অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের পর প্রতিষ্ঠানটি বিগত আওয়ামী সরকারের কিছু স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠির ষড়যন্ত্রের শিকার হয় এবং সেই ষড়যন্ত্রের চুড়ান্ত রূপ নেয় ২০২১-২০২২ সালের দিকে যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারী পুরাতন পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে। বর্তমান পর্ষদের এমডি সৈয়দ মিনহাজ আহম্মেদ ও চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কোনো রকম কারণ ছাড়াই পুর্বের নিরোপরাধ ৫০/৬০ জন কর্মকর্তাকে সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত করেছে এবং তাদের নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও অদক্ষ বা আজ্ঞাবহ লোকদের অধিক বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমান পর্ষদ এখন পর্যন্তও কোনো আর্থিক বিবরণী তৈরি বা পেশ করতে পারেনি। যার কারণে এজিএম বা শেয়ারহোল্ডারদের কোন ধরনের ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এতে ২০১৯ সালে যে শেয়ারের মূল্য ছিল ৮০ টাকা বর্তমানে দরপতনে সেই শেয়ারের মূল্য শেয়ারপ্রতি ১৭ টাকার নিচে দাঁড়িয়েছে। যা সমস্ত শেয়ার হোল্ডারদেকে হতাশ করেছে। যার কারণে সরকারও ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পর্ষদ আসার পর বিনিয়োগ আদায়ের পরিমাণ একেবারেই শুন্যের কোঠায়। ২-৩টি যাও বিনিয়োগ করেছে তাও কু-ঋণ হিসাবে পরিণত হয়েছে। সামান্য আদায়কৃত টাকা (লোন আদায়) দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে- যা বাৎসরিক প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা। এতে প্রতিষ্ঠানের মূলধন ঘাটতি হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহনযোগ্য খরচ বাড়ছে। যেমন- কক্সবাজার ভ্রমণ, ২ কোটি টাকার মূল্যের এমডি ও চেয়ারম্যানের গাড়ি ক্রয়, চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোককে লিগ্যাল অ্যাডভাইজর ও লিগ্যাল ফার্ম নিয়োগ দিয়ে লিগ্যাল ফি পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, প্রতিষ্ঠানের জায়গার ভাড়া বাবদ ফ্লোরের মালিকদেরকে গত ৪ বছর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে না।
মিজান/
পাঠকের মতামত:
- আসিফ নজরুলের ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ নাকচ করল আইসিসি
- সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় সোনার দাম
- ঢাকা বনাম রাজশাহীর জমজমাট ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ডিএসই প্রধান সূচক থেকে বাদ ১৬ কোম্পানি, যুক্ত ৯টি
- আইপিও তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগের চাপে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস
- বিএসইসির প্রেস ব্রিফিং বুধবার
- যেভাবে প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক অচল করল ইরান
- ভারতকে আসিফ নজরুলের কড়া হুঁশিয়ারি
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ
- বিএফআইইউ’র প্রধান হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মামুন
- বিদেশে বাংলাদেশের প্রেস সচিবদের হঠাৎ অব্যাহতি
- যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল প্রসঙ্গ টেনে ইরানে জাতীয় শোক
- ক্রেতা সঙ্কটে হল্টেড ৭ প্রতিষ্ঠান
- যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা আলোচনার ফাঁকে তেলের সুযোগ খুঁজছে ভারত
- ট্রাম্পকে ফেরাউন-নমরুদের সঙ্গে তুলনা!
- এক মাসে ৬ শেয়ারে ২০ শতাংশের বেশি রিটার্ন
- রাতে লালা ঝরা বন্ধ করতে চান জেনে নিন এর ভয়ংকর ইঙ্গিত
- ৪ আলামত থাকলেই বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালোবাসেন
- এলপিজি আমদানিতে ঋণসুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
- মার্কেট মুভারে নতুন পাঁচ কোম্পানি
- বিশ্বকাপের আগে আবারও দুঃসংবাদে ভারতীয় শিবির
- বাজারের গতি পরিবর্তনের নেতৃত্বে তিন কোম্পানি
- ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ
- অলটেক্সের জমি ও কারখানা নিলামে তুলছে সোনালী ব্যাংক
- ঢাকা ব্যাংকের নতুন এমডি ওসমান এরশাদ ফয়েজ
- নির্বাচনের আগে বাজারে স্থিতির প্রত্যাশা
- বিয়ের এক মাস আগে থেকেই কনেকে কাঁদতে হয় যেখানে
- রেমিট্যান্সের জোয়ারে ব্যাংক আমানতে ২০ মাসের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
- ১২ জানুয়ারি ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ১২ জানুয়ারি লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১২ জানুয়ারি দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১২ জানুয়ারি দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শীতকালীন ভ্রমণে বাংলাদেশের ৫ সেরা গন্তব্য
- মেহজাবীন ও ভাইয়ের অব্যাহতির ঘটনা জানা হলো এবার
- দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর
- শিক্ষকদের জন্য বড় ধাক্কা!
- এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যানের ৪৩১% জমি ও স্থাপনা জব্দ!
- তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে নিলেন যেসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী
- কারাগার থেকে নিজের সম্পর্কে সাহসী বার্তা পাঠালেন মাদুরো
- তীব্র প্রয়োজনের সময় মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন
- ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় বিভিন্ন দেশের আজকের টাকার রেট
- যার নির্দেশে চট্টগ্রামে মির্জা ফখরুলের উপর হামলা হয়
- ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মানবিক ও জলবায়ু প্রকল্প বিপন্ন
- ট্রাম্পের অদ্ভুত পোস্ট, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য
- অবশেষে সেই রেস্তোরাঁ কর্মী গ্রেপ্তার
- জাইমা রহমান ইস্যুতে বড় সতর্কতা
- হামিমকে নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন তারেক রহমান
- ভাইরাল ভিডিওর আসল ঘটনা জানলে শিউরে উঠবেন
- রবির পিছুটান, ভাগ্য খুলল জিপি-র
- শেয়ারবাজারে উৎপাদন বন্ধ ৩২ কোম্পানি, তালিকা প্রকাশ
- শেয়ারবাজারে আস্থা বাড়াতে ১০ ব্লুচিপ কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ
- সারাদেশের জন্য শীত নিয়ে নতুন বার্তা
- যে কারণে দ্বিগুণ দামে এলপি গ্যাস কিনলেও পাওয়া যাবে না
- ভারতীয়দের জন্য বড় ঘোষণা বাংলাদেশের
- ডিভিডেন্ড পেলো ২ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা
- ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির ধুম: এক মাসেই ১২০ কোটি টাকা প্রত্যাহার
- শীত নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস
- শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের থাবা; আস্থার সংকটে বিনিয়োগকারীরা
- ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম তদন্তে বিএসইসির তদন্ত কমিটি
- ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম গ্রেফতার
- সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে সরকারের সবুজ সংকেত
- ডিভিডেন্ড পেল তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা












