×
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মালিক-চালকদের জন্য বড় খবর, আসছে যেসব পরিবর্তন

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৬:৩২:২৪
মালিক-চালকদের জন্য বড় খবর, আসছে যেসব পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্ধারণ করা হয়েছে চলাচলের রুট, গতিসীমা, পার্কিং, চার্জিং ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি, আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে নম্বরটি প্রদর্শন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে নবায়নের সুযোগ থাকবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

কোনো আবেদন বাতিল হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবিষয়ক বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধন ও নবায়নের জন্য নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী ফিটনেস সনদ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে।

আগে থেকে সড়কে চলাচল করা ই-রিকশাগুলোকেও বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে। এসব গাড়ির জন্যও ফিটনেস সনদ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

নীতিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলাচল করতে পারবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সড়কেও ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া ফুটপাত ব্যবহার করা যাবে না। চালকদের সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং লেন পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-রিকশায় চালক ছাড়া গাড়ির আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য বহন করা যাবে না। ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।ই-রিকশা চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের সড়ক এবং নির্দিষ্ট রং চূড়ান্ত করা হবে।

এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে ই-রিকশার চলাচল সীমাবদ্ধ রাখতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও ই-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা যাবে।

ই-রিকশা পার্কিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারি চার্জ করতে হবে অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্দিষ্ট গ্যারেজে।

চার্জিং স্টেশন ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুমোদন ছাড়া চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তির বিধান কার্যকর হবে।নীতিমালায় বলা হয়েছে, যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। কোনো গাড়িতে ত্রুটি দেখা দিলে সেটির সামনের দৃশ্যমান স্থানে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে মেরামতের ব্যবস্থা নিতে হবে।

মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এ ছাড়া অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদন এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে চালক ও মালিকদের ঋণ সহায়তা দিতে পারবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি।

ই-রিকশা উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার, ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি কিংবা এর অংশবিশেষ উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা কিংবা পোড়ানো যাবে না বলে নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, নিরাপত্তা, চলাচল, পার্কিং ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট কাঠামো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে