×
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মানচিত্রে নতুন দেশ, হাসিনার কথাই কি সত্যি

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১১:৩৮:২৩
মানচিত্রে নতুন দেশ, হাসিনার কথাই কি সত্যি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশের অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয়কে আটক করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। তবে তাঁদের সিআইএর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয়, মার্কিন চাপে গোপনে মুক্তি কিংবা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এনআইএর অভিযোগ, তাঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে আসামের গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান। পরে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া মিয়ানমারে প্রবেশ করে দেশটির সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এ ঘটনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য এক বিষয় নয়।

এনআইএর বক্তব্য অনুযায়ী, আটক বিদেশিদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

তবে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৮১ মিলিমিটার মর্টার শেল, সি-৪ বিস্ফোরক কিংবা বাংলাদেশের কৌশলগত স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার নীল নকশা উদ্ধারের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়কে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

২০২৪ সালের ২৩ মে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অংশবিশেষ নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিলেন। একই বক্তব্যে তিনি বঙ্গোপসাগরে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব পাওয়ার কথাও বলেন।

তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, অভিযোগটি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে করা হয়ে থাকলে তা সঠিক নয়।

বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ রয়েছে। তবে এসব স্বার্থের উপস্থিতি থেকে কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা চলছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারতের এনআইএর তদন্তে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ড্রোন প্রশিক্ষণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ এসেছে। অন্যদিকে, তাঁদের সিআইএ সদস্য হিসেবে পরিচয়, ওয়াশিংটনের চাপে মুক্তি, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে সামরিক নীল নকশা এবং নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা—এসব দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সতর্ক থাকা জরুরি।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে