×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

একই পরিবারের ৫ মৃত্যু: অডিওতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১১:০৭:০৯
একই পরিবারের ৫ মৃত্যু: অডিওতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। নিহত পরিবারের এক সদস্যের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার করা একটি অডিও বার্তাও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নিহত পাঁচজন হলেন মহেশ (৩৭), তাঁর স্ত্রী ললিতা (৩৫), সাত বছর বয়সী মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে যান। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তাঁরা নুডলস খান। এরপর পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। শুরুতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী তদন্তে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর সন্দেহ জোরালো হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বার্তায় মহেশ তাঁর পরিবারের এমন পরিণতির জন্য নিজের দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে দায়ী করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

তবে অডিও বার্তায় করা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করছেন।

পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী নীরজ এনডিটিভিকে জানান, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তাঁর অভিযোগ, নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

নীরজের ভাষ্য অনুযায়ী, মহেশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের সদস্যরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেট, খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।

ওপি সিংয়ের ভাষ্য, ঘটনাটি সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ার চেয়ে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যেতে পারে। তবে নিহতদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গের তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ পারিবারিক বিরোধ, উদ্ধার করা অডিও বার্তা এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। খাবারের সঙ্গে কোনো বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, মেশানো হয়ে থাকলে সেটি কী এবং কীভাবে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুলিশি তদন্তের ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বা অডিও বার্তায় করা অভিযোগকে মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে