কনফিডেন্স পাওয়ারের ভিশন ২০৩৫, লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর ও চিরিরবন্দরে স্থাপিত চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এ সক্ষমতা গড়ে তুলেছে কোম্পানিটি। কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জার্মান ইঞ্জিন ও কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে কোম্পানির কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
খালেদ ইসলাম জানান, যাত্রা শুরুর মাত্র দুই বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হওয়ায় কোম্পানির আয় ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা পাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জার্মান প্রযুক্তির ইঞ্জিন ও টার্বোচার্জিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন তাপ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কোম্পানির কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৪ থেকে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও কমানো যাচ্ছে।
বগুড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খালেদ ইসলাম বলেন, বড় আকারের ইঞ্জিন পরিবহন ও স্থাপন ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি ইঞ্জিনের ওজন প্রায় ৩৮০ টন হওয়ায় নদীপথের সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে বিশেষ লজিস্টিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। এ জন্য ইঞ্জিনগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে পরিবহন করা হয়। পুরো কার্যক্রমে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার সমন্বয় করতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সেতু নির্মাণেরও প্রয়োজন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে প্রতিটি ইঞ্জিনের প্রায় ১০ হাজার যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে এনে সেগুলো সংযোজন ও চালু করা ছিল অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এ কাজে যন্ত্রাংশের সময়মতো সরবরাহ, পরিবহন এবং সংযোজন নিশ্চিত করতে হয়েছে। কনফিডেন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সহায়তায় পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
খালেদ ইসলাম আরও বলেন, ইঞ্জিনগুলো শুরু থেকে সংযোজন করার অভিজ্ঞতা কোম্পানির প্রকৌশলীদের প্রতিটি যন্ত্রাংশের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে নিজস্ব দক্ষতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত পরিবহনব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, চট্টগ্রামে পরিবহন, সেখান থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া এবং পরে সড়কপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৪০ টন ধারণক্ষমতার জ্বালানিবাহী লরি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে।
কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রকৌশল, জ্বালানি পরিবহন এবং কেন্দ্র পরিচালনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির অন্যতম শক্তি। এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি অবকাঠামো, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারিভিত্তিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে গ্রুপটি।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল প্রায় ৩২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল প্রায় ১৯৩ টাকা। কোম্পানির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৬৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে। ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কনফিডেন্স পাওয়ারের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে তাঁদের যাত্রা শুরু হয়। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান রাখার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। এর পাশাপাশি সামুদ্রিক জ্বালানি খাতেও কার্যক্রম রয়েছে, যা এখন কনফিডেন্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ পথচলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এবিবি, সিমেন্স, রোলস-রয়েস, ম্যান এবং জিই পাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা গ্রুপটির প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি হলো সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্ন শিল্পযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোম্পানিটির পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ ক্ষেত্রে কনফিডেন্স গ্রুপের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে গ্রুপটির চারটি ভিন্ন স্থানে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র পরিচালনা এবং দূরবর্তী এলাকায় জ্বালানি পরিবহন বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গ্রুপটি এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা দল ও নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম মৌলিক ও সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানিটির আরেক পরিচালক সালমান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের সবচেয়ে লাভজনক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ সক্ষমতা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎস থেকে আসবে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের লংলা এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট এবং পঞ্চগড়ে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
সালমান করিম বলেন, প্রকৌশল, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, স্টিল ফ্যাব্রিকেশন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কনফিডেন্স গ্রুপের অর্জিত অভিজ্ঞতা সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সক্ষমতা জোগাবে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সম্প্রতি ইজিসিবির অধীনে সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণের কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভিশন ২০৩৫’ শুধু একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নয়; বরং অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
কোম্পানির পরিচিতি ও আইপিও পরিকল্পনা
কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। কোম্পানিটির মূল ব্যবসা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি। ২০১৭ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।
কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পূর্ববর্তী পরিশোধিত মূলধন ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে যায়। ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি একটি হোল্ডিং কোম্পানি। এর অধীনে চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেড এবং কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড।
প্রথম তিনটি প্রতিষ্ঠান ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে। কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড ও কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট করে, অর্থাৎ দুটি কেন্দ্রের সম্মিলিত সক্ষমতা ২২৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫৪ দশমিক ৩৬ মেগাওয়াট।
কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড কনফিডেন্স পাওয়ার ও ডোরিন পাওয়ারের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সরকারের সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড এবং জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। অপরদিকে, কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার কোম্পানিটির হাতে রয়েছে।
আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ দিয়ে কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ইক্যুইটি বিনিয়োগ এবং ঋণের একাংশ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৯৩ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট। আইপিওর অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ সক্ষমতার সঙ্গে আরও ২৬০ মেগাওয়াট যুক্ত হবে।
তবে কোম্পানিটির ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হবে। সরকার চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করলে কেন্দ্রগুলো চালু রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া কেন্দ্রগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ নীতির আওতায় পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মার্চেন্ট পাওয়ার নীতির অধীনে অন্য গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও থাকতে পারে। অন্যদিকে, কোম্পানিটি আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারের আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ পেলে কোম্পানিটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়বে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০৪৮ বা ২০৪৯ সাল পর্যন্ত সরকারের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। এরপর কেন্দ্রগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। পাশাপাশি মার্চেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুযোগও থাকবে। ২০২৫ সালে প্রণীত মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় বেসরকারি খাতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ অন্য শিল্পকারখানা বা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যায়।
আর্থিক চিত্র
কোম্পানিটির সর্বশেষ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩১ টাকা ৮৩ পয়সা। এর আগের দুই অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল যথাক্রমে ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং ৩১ টাকা ৩৩ পয়সা।
২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯৩ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৬১ টাকা ৪৯ পয়সা।
এসএ খান/
পাঠকের মতামত:
- কনফিডেন্স পাওয়ারের ভিশন ২০৩৫, লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ
- পুলিশের একাধিক ইউনিটে রদবদল, নতুন পদায়ন পেলেন যাঁরা
- কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- মতিন স্পিনিংয়ের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- এআইনির্ভর পরামর্শসেবায় শেয়ারবাজারে বাড়বে বিনিয়োগের সুযোগ
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- হঠাৎ খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা, এরপর যা ঘটল
- গ্রেফতার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান
- ডিএসইর ডেটা সেন্টারে বিভ্রাট, দ্বিতীয় দিনেও বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৩৪ কোম্পানি
- নেপাল-শ্রীলংকা পারলেও বাংলাদেশ পারছে না
- শেয়ারবাজারে বড় সহায়তার দাবি, আইসিবি পুনর্গঠন নিয়ে নতুন প্রস্তাব
- বিমানবন্দরে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে ধাক্কা
- ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি বাংলাদেশের
- প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চান বিক্ষোভকারীরা, উত্তাল রাজধানী
- চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকে আর্থিক উদ্বৃত্তে বড় প্রবৃদ্ধি
- শেয়ারবাজারের পতনে বাড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার দায়
- ১৮ অক্টোবর লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ অক্টোবর দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ অক্টোবর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ট্রেড লাইসেন্সের নিয়মে আসছে পরিবর্তন
- পাঁচ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা
- ৮০ বছরের নারীকে বিয়ে করলেন ২১ বছরের যুবক
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পেজ নিয়ে হামিমের পোস্ট
- নাহি অ্যালুমিনিয়ামের কর্পোরেট ডিরেক্টর নিয়োগ
- ফেসবুকের ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যাঁরা
- ছুটিতে বিদ্যুৎ নিয়ে ডেসকোর জরুরি বার্তা
- সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ভারতের বিচারব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী নিয়ে যা বললেন ফাওজুল কবির খান
- শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা
- সাত কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড অনলাইনে পেতে তথ্য হালনাগাদের অনুরোধ রেনাটার
- দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল, ঘরে বসে জানার সহজ উপায়
- তারেক রহমানের আসনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের কড়া বক্তব্য
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম জেনে নিন
- বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা প্রকাশ
- কলকাতায় পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু
- বন্ধ হচ্ছে না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএএসএম
- শাহজালালে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ
- অস্ত্র হাতে মাদকের আস্তানায় হানা দিলেন ইশরাক
- লাভেলোর শেয়ার কারসাজির দায়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা
- তৃতীয় প্রান্তিকে ডেল্টা লাইফের আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় পরিবর্তন
- রেনেটার ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- বছরজুড়ে আর্থিক সূচকে ইতিবাচক ধারা, আসছে সুখবর!
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ১৯ কোম্পানি
- বাজার স্থিতিশীল করতে ব্যর্থতার অভিযোগ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কমিশন গঠনের দাবি
- খবর প্রকাশের পর জানল ঢাকা, দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে নতুন তথ্য
- রিসোর্টে আগুনে নিহত ছয়জন, সামনে এলো পরিচয়
- ঋণ শোধেই রাজস্বের ১৪ শতাংশ শেষ, বিপাকে গরিব দেশগুলো: আইএমএফ
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দামের নতুন তালিকা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম প্রকাশ
- ডিভিডেন্ড বিতরণ না করায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ৮ কোম্পানি
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- সালভো কেমিক্যালের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ১৯ কোম্পানি
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম জেনে নিন
- অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ১০ কোম্পানি
- ব্র্যাক ইপিএলে কারিগরি ত্রুটি কারণে লেনদেন বিঘ্ন
- রেনেটার ডিভিডেন্ড ঘোষণা
শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর
- কনফিডেন্স পাওয়ারের ভিশন ২০৩৫, লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ
- কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- মতিন স্পিনিংয়ের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- এআইনির্ভর পরামর্শসেবায় শেয়ারবাজারে বাড়বে বিনিয়োগের সুযোগ
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ





.jpg&w=50&h=35)


.jpg&w=50&h=35)
