×
ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ইরান থেকে শিখে আমেরিকাকে পাল্টা চাল বাংলাদেশের 

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ০৯:৫১:০৮
ইরান থেকে শিখে আমেরিকাকে পাল্টা চাল বাংলাদেশের 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ ঘিরে দেশের এভিয়েশন খাতে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তির পাশাপাশি ইউরোপের এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক প্রয়োজনের পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা সামনে এসেছে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে আধুনিক ড্রিমলাইনারসহ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের মাধ্যমে বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকায় বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এ নিয়ে এভিয়েশন ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশের বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতিকে সরবরাহকারী বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান হলেও এয়ারবাস ইউরোপের প্রধান উড়োজাহাজ নির্মাতা। ফলে দুই নির্মাতার কাছ থেকে উড়োজাহাজ সংগ্রহ করলে একটি নির্দিষ্ট সরবরাহকারী বা ভূ-রাজনৈতিক ব্লকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এভিয়েশন খাতকে অনেক সময় শুধু ব্যবসা বা পরিবহন খাত হিসেবে দেখা হলেও এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৌশলগত সক্ষমতার বিষয়ও জড়িত। বিশেষ করে উড়োজাহাজের খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তন এসব ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষণে প্রায়ই ইরানের উদাহরণ টানা হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে একটি নির্দিষ্ট সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাকে সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্য তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো একক পরাশক্তির ওপর নিরঙ্কুশ নির্ভরশীল না হওয়ার নীতির কথা বলা হয়েছে বলে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা, যাত্রীসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিমানের সক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অক্টোবরে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে রেখে এখন নজর রয়েছে বাংলাদেশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বহর গড়ে তোলে এবং এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্য কতটা বজায় রাখতে পারে, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে