×
ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় প্রত্যাশা পূরণের বার্তা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লো

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২২:১০:১১
মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় প্রত্যাশা পূরণের বার্তা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরজুড়ে মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের কোম্পানি দ্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যবসায়িক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি ৬৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। সে হিসাবে এবার ডিভিডেন্ডের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। ফলে বছর শেষে ইবনে সিনা ফার্মার কাছ থেকে বাড়তি ডিভিডেন্ডের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছে পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণায়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করে এই লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, শুধু বছর শেষে নয়, অর্থবছরের বিভিন্ন সময়েই মুনাফা ও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বছর শেষে ডিভিডেন্ড বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণায় সেই প্রত্যাশা পূরণের বার্তা দিয়েছে কোম্পানিটি।

৯ মাসেই ইপিএসে বড় অগ্রগতি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে, অর্থাৎ জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ইবনে সিনা ফার্মার শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৯৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল এর চেয়ে ৪ টাকা ৯২ পয়সা কম।

অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই শেয়ারপ্রতি আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে কোম্পানিটি। একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহও বেড়েছে।

জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৫২ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৩৬ পয়সা কম।

এদিকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ১০ পয়সায়।

অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের আর্থিক ফলাফলেই কোম্পানিটির আয়, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং সম্পদমূল্যের অবস্থানে ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছিল। এর পরের সময়ে বছর শেষে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ফলাফলে সেই ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সমন্বিত হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সমন্বিত আর্থিক হিসাবে ইবনে সিনা ফার্মার ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে সমন্বিত ইপিএস ছিল ২০ টাকা ২৭ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস বেড়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মুনাফার এই প্রবৃদ্ধিই বছর শেষে বাড়তি লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

শুধু শেয়ারপ্রতি আয় নয়, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমন্বিত হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সা। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এ পরিমাণ ছিল ২৩ টাকা ১৬ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ১৪ টাকা ৭৯ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

নেট সম্পদমূল্যও বেড়েছে

ইবনে সিনা ফার্মার সমন্বিত নেট সম্পদমূল্য বা এনএভিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট সমন্বিত এনএভি ছিল ৩৯৯ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৬০ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭০ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট সমন্বিত নেট সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

একই সময়ে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত এনএভিও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সায়।

অর্থাৎ এক বছরে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১৮ টাকা ৮৭ পয়সা।

একক হিসাবেও আয় ও নগদ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি

সমন্বিত আর্থিক ফলাফলের পাশাপাশি কোম্পানিটির একক আর্থিক হিসাবেও আয়, পরিচালন নগদ প্রবাহ ও নেট সম্পদমূল্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে একক হিসাবে ইবনে সিনা ফার্মার ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৩৭ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একক ইপিএস ছিল ২১ টাকা ১৩ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একক হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা, যা প্রায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

একক হিসাবে পরিচালন কার্যক্রম থেকেও নগদ প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩৭ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২২ টাকা ৭৮ পয়সা।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা, যা প্রায় ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

একক হিসাবের নেট সম্পদমূল্যেও একই ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট একক এনএভি ছিল ৩৯৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৬৩ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একক হিসাবে কোম্পানিটির মোট নেট সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে শেয়ারপ্রতি একক এনএভি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১২৫ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৬৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১৮ টাকা ৮১ পয়সা।

২৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড তারিখ

ইবনে সিনা ফার্মার ঘোষিত ৭৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৬ অক্টোবর ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। ওই তারিখে কোম্পানির শেয়ার নিবন্ধন খাতা অথবা সিডিবিএল নিবন্ধনে যেসব শেয়ারহোল্ডারের নাম থাকবে, তারাই ঘোষিত ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন।

একই সঙ্গে ওই তারিখে যেসব শেয়ারহোল্ডারের নাম কোম্পানির নিবন্ধনে থাকবে, তারা কোম্পানির ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন।

২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বার্ষিক সাধারণ সভা

ইবনে সিনা ফার্মার ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৩ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা হবে।

কোম্পানির প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, সভায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় সংযোগ ঠিকানা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত শেয়ারহোল্ডারদের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সভায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংযোগ ঠিকানা প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনসহ সভার নোটিশ যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের ই-মেইলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।

ই-টিআইএন হালনাগাদে গুরুত্বারোপ

ডিভিডেন্ড বিতরণের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের কর-সংক্রান্ত তথ্যও জানিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মা।

যেসব শেয়ারহোল্ডারের বিও হিসাব রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর মাধ্যমে বিও হিসাবের সঙ্গে ১২ সংখ্যার ই-টিআইএন ও ঠিকানা হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেসব শেয়ারহোল্ডার ফোলিও নম্বরের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার ধারণ করেন, তাদের ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে কোম্পানির শেয়ার বিভাগে ১২ সংখ্যার ই-টিআইএন সনদ জমা দিতে বলা হয়েছে।

কোম্পানির নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্য জমা না দিলে ক্যাশ ডিভিডেন্ড থেকে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কেটে নেওয়া হবে। আর প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে জমা দেওয়া হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে করের হার হবে ১০ শতাংশ।

বছর শেষে প্রত্যাশা পূরণের বার্তা

ইবনে সিনা ফার্মার আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অর্থবছরের বিভিন্ন পর্যায়ে কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। প্রথম ৯ মাসের ফলাফলেও শেয়ারপ্রতি আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অগ্রগতি দেখা যায়। ফলে বছর শেষে লভ্যাংশ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাবে সমন্বিত ইপিএস ২৫ টাকা ৪৩ পয়সা, সমন্বিত এনওসিএফপিএস ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একক হিসাবেও ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৩৭ পয়সা, এনওসিএফপিএস ৩৭ টাকা ৬৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৪৪ টাকা ৬৭ পয়সা।

এই ধারাবাহিক আর্থিক অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। আগের অর্থবছরের ৬৪ শতাংশের তুলনায় এবার ডিভিডেন্ডের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

আগামী ২৩ নভেম্বরের ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রস্তাবিত ডিভিডেন্ডসহ অন্যান্য বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে