×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ০৮:১১:৩৮
ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্যান্য নাশকতার ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিস্ফোরণের ভিডিও ধারণ করে নির্দিষ্ট যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানোর বিনিময়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

ডিবির দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ভারতীয় নম্বর থাকলেই সেটির ব্যবহারকারী শারীরিকভাবে ভারতে অবস্থান করছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমিং বা ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে অন্য দেশ থেকেও এ ধরনের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের বিনিময়ে নাশকতায় অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ব্যবহার করার পাশাপাশি তরুণদের দলীয় পদ-পদবির প্রলোভন দেখানোর অভিযোগও তদন্তে এসেছে।

পুলিশের দাবি, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির কথিত গোপন স্থাপনার সন্ধানও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ডিবি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় কিছু বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘটনায়ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক ও তার কাছ থেকে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশে তারা ওই কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন বলে তথ্য দিয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ভিডিও করে নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর পর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে ডিবির দাবি। এসব বক্তব্য তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। পুলিশ জানিয়েছে, তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে জন্মতারিখের অমিল পাওয়া গেছে। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

তবে রবিউল ইসলাম আদালতে সাংবাদিকদের কাছে নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কাজে আসা-যাওয়া করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে তার কাছ থেকে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে নাশকতায় সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ এবং এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে অর্থায়ন ও যোগাযোগের উৎস শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্কের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে