×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ১০ ধরনের ঝুঁকি দেখছে এডিবি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:২৬:১৫
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ১০ ধরনের ঝুঁকি দেখছে এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে ১০ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এডিবি। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে নতুন সংকট, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, প্রত্যাশার তুলনায় কম উন্নয়ন ব্যয় এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির এসব ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে গেলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে এসে প্রবৃদ্ধিও কিছুটা বাড়তে পারে।

‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’-এ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির মিশন প্রধান চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে এগোতে শুরু করেছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকায় এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশে সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে এবং শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে এডিবি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।

এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এডিবির মতে, মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি দ্বিগুণ হতে পারে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় এ ঘাটতি বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এডিবির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ঘাটতি বেড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেবা ও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে এডিবি। তবে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে একই ধরনের গতি নাও থাকতে পারে।

সংস্থাটির মতে, উচ্চ সুদহার, ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং বিদেশি বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এর পাশাপাশি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে