×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পে-স্কেলের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেক সুখবর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৪২:১২
পে-স্কেলের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেক সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও একটি আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) জমার বিপরীতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তহবিলের স্থিতির ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতে কোনো সরকারি কর্মচারীর জিপিএফে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ওই স্থিতির বিপরীতে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে মুনাফার হার হবে ১২ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ শতাংশ।

শুধু অর্থবছরের শুরুতে থাকা স্থিতির ওপর নয়, অর্থবছরে নতুন করে জমা হওয়া চাঁদের ক্ষেত্রেও একই হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রারম্ভিক জিপিএফ স্থিতি যে শ্রেণিতে পড়বে, সেই অনুযায়ী নতুন জমার ওপরও ১৩, ১২ অথবা ১১ শতাংশ হারে মুনাফা হিসাব করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল বা সিপিএফভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করা যাবে। তবে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত ১৩, ১২ ও ১১ শতাংশ হারকে সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান তার আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী এর চেয়ে কম হারে মুনাফা নির্ধারণ করতে পারবে, তবে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।

জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্য তহবিল হলো সরকারি কর্মচারীদের জন্য পরিচালিত একটি সঞ্চয় ব্যবস্থা। চাকরিরত অবস্থায় কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এই তহবিলে জমা রাখেন। চাকরি শেষে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ওই অর্থ এবং প্রযোজ্য মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

অন্যদিকে, সিপিএফ বা প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল সাধারণত এমন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন বা সংস্থায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রচলিত সরকারি পেনশনব্যবস্থা নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিবিধান অনুযায়ী এতে কর্মীদের চাঁদা ও মুনাফা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত মুনাফার হার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য কার্যকর থাকবে।এর আগে সরকার নতুন জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন পাবেন।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডে নতুন মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন দেওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের বাকি অংশ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি জিপিএফ ও সিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার সুযোগ তৈরি করেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে