ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

১০০% পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রথমে মিলবে যা

২০২৬ আগস্ট ১৮ ০৯:৫৫:২৫
১০০% পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রথমে মিলবে যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সরকারের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাস্তবায়ন কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছিল।

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থাৎ পুরো বেতন কাঠামোর সুবিধা একসঙ্গে না দিয়ে ধাপে ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বলে বাজেটসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান।

কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

এর মধ্যে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির কাজ হলো বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বিষয় ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি বিবেচনায় চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়া।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও ভাতা কোন হারে এবং কোন সময়ে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়বে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে।

ফলে প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা একবারে পুরো বর্ধিত বেতন-ভাতার সুবিধা না পেয়ে ধাপে ধাপে সুবিধা পাবেন।

তবে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এটি সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ ও প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে