ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

মার্জিন ঋণ শিথিলের গুঞ্জনে চাঙা উভয় শেয়ারবাজার

২০২৬ আগস্ট ১১ ১৭:৪৮:০২
মার্জিন ঋণ শিথিলের গুঞ্জনে চাঙা উভয় শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই কার্যদিবসের দর সংশোধনের পর মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। মার্জিন ঋণের নিয়ম শিথিল হতে পারে—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে শেষ দিকে ব্যাংক ও বিমা খাতে ব্যাপক কেনাকাটা শুরু হলে ঊর্ধ্বমুখী হয় উভয় শেয়ারবাজার।

দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৪ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একই সময়ে দেশের প্রধান কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) এবং সাধারণ বিমা কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রাইস-টু-বুক রেশিওর শর্ত প্রত্যাহার করতে পারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা জানান, সম্ভাব্য এই নীতিগত পরিবর্তনই দিনের শেষ ভাগের বাজারে বড় ধরনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও বিমা খাতে সহজ শর্তে মার্জিন ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনার খবরে শেষ ঘণ্টায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়। এর ফলে দিনের শুরুতে থাকা সতর্কতা কাটিয়ে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়।

তবে সূচক বাড়লেও ডিএসইতে মোট লেনদেন কিছুটা কমেছে। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ ৬ শতাংশ কমে ৯০৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

অন্যদিকে বাজারের সার্বিক অংশগ্রহণ ছিল ইতিবাচক। দিন শেষে ডিএসইতে ১৯৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১২৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল সাধারণ বিমা খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। একই সঙ্গে খাতটির গড় রিটার্ন ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

লেনদেনের দিক থেকে সাধারণ বিমার পর ছিল বস্ত্র ও ওষুধ-রসায়ন খাত। মোট লেনদেনে বস্ত্র খাতের অবদান ছিল ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

খাতভিত্তিক দর বৃদ্ধির তালিকায় বিবিধ এবং সেবা খাতও ভালো অবস্থানে ছিল। উভয় খাতের গড় রিটার্ন ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ করে।

তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সিমেন্ট খাতে। দিনটিতে এ খাতের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে, গড় পতনের হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআই খাতও চাপে ছিল। এ খাতের গড় দর কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ।

একক কোম্পানির মধ্যে Northern Insurance ও Republic Insurance সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল। উভয় কোম্পানির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদরও ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় আধিপত্য ছিল দুর্বল এনবিএফআইগুলোর। পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়নের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা নিয়ে চলমান উদ্বেগই এসব কোম্পানির শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকার বাজারের পাশাপাশি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর নির্বাচিত শ্রেণির সূচক সিএসসিএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৫৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর CASPI সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৬২৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের তুলনায় লেনদেন ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে