ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

ডিএসইতে চাকরিচ্যুতি বিতর্ক, মুখোমুখি দুই পক্ষের অবস্থান

২০২৬ আগস্ট ০৪ ২০:২৩:০৫
ডিএসইতে চাকরিচ্যুতি বিতর্ক, মুখোমুখি দুই পক্ষের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বাতিল, স্বপদে পুনর্বহাল এবং পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে ডিএসই বলছে, এটি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

গত ২ আগস্ট প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরিচ্যুতির পুরো প্রক্রিয়া আইনসম্মত এবং প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসারেই সম্পন্ন হয়েছে।

এর জবাবে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডিএসইর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তাদের পুনর্বহালের পাশাপাশি চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ডিএসই ‘অর্গানাইজেশনাল ট্রান্সফরমেশন’-এর কথা উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে কোনো অনুমোদিত বা লিখিত পরিকল্পনা কর্মীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই শুধু ‘পজিশন উইল নো লংগার বি রিকোয়ার্ড’ উল্লেখ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীদের ভাষ্য, এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট, ২০১৩-এর ধারা ১৮(ছ) অনুযায়ী ২০১৩ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা ও অর্জিত সুবিধা সংরক্ষিত। এছাড়া ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারির ৭৮৯তম সভায় পুরোনো কর্মীদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত আইন ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা দাবি করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনকে ‘মানবিক উদ্যোগ’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও তা চাকরিচ্যুত কর্মীদের পেশাগত ও সামাজিক ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার নয়। তাদের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা দেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিএসইর ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগও নাকচ করেছেন চাকরিচ্যুতরা। তাদের দাবি, তারা আইনি ভিত্তি ও দালিলিক প্রমাণের আলোকে বক্তব্য তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তারা চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং কোনো ধরনের চূড়ান্ত পাওনা (ফাইনাল সেটেলমেন্ট) গ্রহণ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ডিএসই জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি পদ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।

ডিএসইর দাবি, এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় এটি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। ওই ধারায় নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দিয়ে কারণ উল্লেখ ছাড়াই চাকরির অবসান ঘটানোর বিধান রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, আইনে চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত আরও দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ সব প্রাপ্য সুবিধা পরিশোধ করা হবে। ইতোমধ্যে এসব অর্থ বুঝিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতার সনদসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চাকরিচ্যুতির পর কয়েকজন ব্যক্তি অসম্পূর্ণ তথ্য ও প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে ডিএসইর ১৭ কর্মকর্তার চাকরির অবসান ঘটে। এর প্রতিবাদে গত ২ আগস্ট মতিঝলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএসই একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং কর্মী নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব এখতিয়ার।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবিলম্বে ১৭ জনকে স্বপদে পুনর্বহাল, চাকরিচ্যুতির পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত এবং ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের স্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ডিএসই পুনর্ব্যক্ত করেছে, প্রতিষ্ঠানটি আইন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিমালা অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে