ঢাকা, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

কুয়েতে নতুন অনলাইন কেলেঙ্কারি; হাজারো প্রবাসীর অর্থ আটকে আতঙ্ক

২০২৬ আগস্ট ০১ ১০:৩০:৩১
কুয়েতে নতুন অনলাইন কেলেঙ্কারি; হাজারো প্রবাসীর অর্থ আটকে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ফিলিপাইনের হাজারো প্রবাসী একটি অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘ইয়েপবিট’ (Yepbit) নামের একটি অ্যাপ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘বনচ্যাট’ (BonChat) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর এখন অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। এতে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের পর প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পিন কোড দেওয়া হতো। সেই কোড অ্যাপে যুক্ত করলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণ ডলার যোগ হতো বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন সদস্য যুক্ত করলে অতিরিক্ত কমিশনের প্রলোভন দেখানো হতো। ফলে অনেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, গত ১০ জুলাই থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করলেও অনেকেই টাকা তুলতে পারছেন না। শুরুতে নিয়মিত অর্থ উত্তোলন সম্ভব হলেও পরে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় অথবা দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন "প্রক্রিয়াধীন" অবস্থায় থাকে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হাজার হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিচালনাকারীরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন,"শুরু থেকেই কিছুটা সন্দেহ ছিল। আমার আশপাশের কয়েকজনকে টাকা তুলতে দেখেছিলাম। পরে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অনুরোধে ১,৫০০ ডলার বিনিয়োগ করি। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০০ ডলার জমা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অর্থও তুলতে পারছি না।"

আরেক ভুক্তভোগী সুমন শেট বলেন,"আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার দেখাচ্ছিল। শুরুতে কয়েকবার টাকা তুলতে পেরেছিলাম। পরে বেশি লাভের আশায় টাকা রেখে দিই। এখন পুরো টাকাই আটকে গেছে। আমার মাধ্যমে যারা যুক্ত হয়েছেন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আমাকে দায়ী করছেন। এতে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট হয়েছে।"

কুয়েত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, অনলাইনভিত্তিক কোনো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অর্থ উত্তোলনের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। তিনি বলেন, অতীতে এমটিএফ (MTFE)-সহ বিভিন্ন নামে অনুরূপ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি বা নতুন সদস্য আনলে কমিশনের লোভ দেখানো হলে বিনিয়োগের আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে