ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কেনা জমি নিজের নামে লিখে নিলেন দলিল লেখক, মিলল চাঞ্চল্যকর সত্য

২০২৬ জুলাই ২৯ ১১:৫৪:৪২
কেনা জমি নিজের নামে লিখে নিলেন দলিল লেখক, মিলল চাঞ্চল্যকর সত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দুবাইপ্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের তদন্তে অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত পরিচালনা করেন শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম। পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি জানান, ভ্যানচালক বাবা নুরুল ইসলাম একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে দুবাই থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ফরহাদ আলী ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি পরিবারের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ক্রেতার নামে দলিল না করে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ভুক্তভোগীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে থাকা ছেলে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়ে জমিটি কিনেছিল। বসতভিটা ও ওই জমিই তাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে পরিবারটি চরম সংকটে পড়বে।

জমির বিক্রেতারা—বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন—জানান, তারা ২০২১ সালে ফরহাদ আলীর কাছেই জমি বিক্রি করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিলটি দলিল লেখক নিজের নামে করে নিয়েছেন।

পরিবারটি জানায়, দীর্ঘদিন দলিলের নকল না দেওয়ায় তারা বিষয়টি জানতে পারেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর নামজারি ও খাজনা দিতে গিয়ে ভূমি অফিস থেকে জানতে পারেন, সরকারি রেকর্ডে জমির মালিক হিসেবে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের নাম রয়েছে। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ফরহাদ আলীর পরিবার ভোগদখল করে আসছে।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে