ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, কিন্তু আওয়ামী লীগ ইস্যুতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত

২০২৬ জুলাই ২২ ০৯:০৩:১৭
নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, কিন্তু আওয়ামী লীগ ইস্যুতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী বা সক্রিয় নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনী আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে চার শ্রেণির ব্যক্তির প্রার্থিতা সীমিত করার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন ও বিধিমালার সংশোধনী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তবে আচরণবিধি সংশোধন ইসির নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন এবং প্রার্থীর দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী কমিশনের আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়াও অনুমোদন পেতে পারে।

ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাস বা অব্যাহতি পেলে এ অযোগ্যতা আর কার্যকর থাকবে না।

এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক ও ঋণখেলাপির জামিনদারদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল বর্তমানের দুই সদস্যের পরিবর্তে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। কমিশনের মতে, এতে আপিল নিষ্পত্তির সময় কমবে এবং আইনি জটিলতাও হ্রাস পাবে।

সংশোধনী প্রস্তাবে আরও রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা বাতিল, জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে