ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন, সামনে এলো নতুন তথ্য

২০২৬ জুলাই ১৫ ১৫:১১:১৩
ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন, সামনে এলো নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) জমা পড়েছে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন।

এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) রয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএফআইইউ তাদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএফআইইউতে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫টি সন্দেহজনক প্রতিবেদন জমা হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩০ হাজার ১৯৯টিতে পৌঁছেছে।

চার বছর আগের তুলনায়ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন জমার হার অনেক বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদন জমা হয়েছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জমা পড়া সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদনের প্রায় ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে।

আইন অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ অনুযায়ী রিপোর্টিং প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তা বিএফআইইউকে জানাতে বাধ্য।

বিএফআইইউ বলছে, সন্দেহজনক প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

এ ছাড়া অনলাইন জুয়া ও বাজি, বৈদেশিক মুদ্রার অবৈধ লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো কার্যক্রম বাড়ায় এসব খাতের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন দাখিলে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। গত তিন অর্থবছরেই মোট প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্যাংক থেকে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকের প্রতিবেদন বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ১২১টি থেকে বেড়ে ২৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদনও ৯০০টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫টিতে পৌঁছেছে।

বিএফআইইউর মতে, সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন বৃদ্ধি আর্থিক খাতে উন্নত নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং আধুনিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রতিফলন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে