ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সিআইবি নীতিতে পরিবর্তন চায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো

২০২৬ জুন ১৭ ২১:০০:৩৯
সিআইবি নীতিতে পরিবর্তন চায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নীতিমালায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। সংগঠনটির মতে, কোনো কোম্পানির পরিচালক বা মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি অবস্থার কারণে আর্থিকভাবে সুস্থ কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি উত্থাপন করে।

বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও প্রবৃদ্ধির পথে থাকা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সিআইবি প্রতিবেদনের কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর যেসব জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে সংগঠনটি।

বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠান—যেমন মূল কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে, সেই প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক যে কোম্পানির পর্ষদে রয়েছেন, সেই কোম্পানিটিও নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। অথচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি আর্থিকভাবে লাভজনক ও বিধিবিধান মেনে পরিচালিত হলেও ঋণপ্রাপ্তি এবং ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।

বিএপিএলসির নেতারা বলেন, এ ধরনের ‘প্রক্সি ডিফল্ট’ বা পরোক্ষ ঋণখেলাপি ধারণা ব্যবসার জন্য অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করছে। তাই কোনো কোম্পানির ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওই কোম্পানির নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমানে কোনো গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা, পরিচালক বা জামিনদারের সিআইবি প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে একই গ্রুপের অন্যান্য কোম্পানির ঋণসুবিধাও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে আর্থিকভাবে সক্ষম ও নিয়ম মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ কারণে সিআইবি মূল্যায়নে ‘একই নিয়ম সবার জন্য’ পদ্ধতি থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। বিএপিএলসির মতে, কোনো ব্যক্তি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের দায় অন্য সুস্থ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়।

সিআইবি-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও প্রতিনিধি দল সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যাক্টরি রিভাইভাল ফান্ড’-এর পরিধি বাড়ানোর দাবি জানায়। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য এ তহবিল গঠন করা হলেও আর্থিক সংকটে থাকা পুনর্গঠিত ও চালু কারখানাগুলোকেও এর আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিএপিএলসির মতে, এসব কারখানার অনেকগুলোই তীব্র কার্যকরী মূলধন সংকটে ভুগছে। তাদের সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন অব্যাহত থাকবে, হাজার হাজার কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে এবং সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমাতে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজারনির্ভর হতে হবে। ইকুইটি ও ঋণপত্রভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো গেলে শেয়ারবাজার আরও গভীর হবে, একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপও কমবে।

তাদের মতে, অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করা গেলে করপোরেট খাত আরও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতও অধিক স্থিতিশীল হবে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে