ঢাকা, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বিএনপির কৌশলে ব্যর্থ “বড় পরিকল্পনা”

২০২৬ মে ০৬ ১০:২৬:৫০
বিএনপির কৌশলে ব্যর্থ “বড় পরিকল্পনা”

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে “অবৈধ” ও “সংবিধানবহির্ভূত” হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, নির্বাচন বানচাল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিএনপি সে সময় কৌশলগতভাবে কিছু বিষয়ে আপস করেছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন মহলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলতে চলতেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করেই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছিল।

তার দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে যে বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়, তা পূর্ববর্তী ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল।লেখাটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সমালোচনায় বলা হয়, সরকার সংস্কারের নামে বিভিন্ন কমিশন গঠন করে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করে। এছাড়া নির্বাচন বিলম্বিত করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

এখানে গণমাধ্যম, জনপ্রশাসন ও অন্যান্য খাতে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। লেখকের মতে, এসব উদ্যোগ রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অংশ ছিল।

প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। একদিকে তারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জোরালো করে, অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়, তার রাজনৈতিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগের ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো আলোচনাটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপিত। ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও থাকতে পারে, যা এখানে প্রতিফলিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে সময়টি ছিল অত্যন্ত জটিল। বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন অবস্থানই বর্তমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

জুলাই জাতীয় সনদকে ঘিরে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি। সংসদে উত্থাপিত বক্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই ইস্যু আগামী দিনেও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে