ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ইন্ট্রাকোর সম্পদ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে নামল বিএসইসি

২০২৬ মে ০৫ ১৯:৫৭:১৯
ইন্ট্রাকোর সম্পদ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে নামল বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির আর্থিক প্রতিবেদনে স্থায়ী সম্পদের হিসাব ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কোম্পানিটির আরও তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্যও এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে কমিশন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানানো হয়েছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এম. হাই অ্যান্ড কো. সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড।

গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক অমিত অধিকারী।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা যাচাই হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে বাজারে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং বিএসইসির চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি তার তিন সহযোগী প্রতিষ্ঠান—এম. হাই অ্যান্ড কো., নেসা অ্যান্ড সন্স এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন—এর সঙ্গে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য আগামী ২১ মে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১২ মার্চ এই একীভূতকরণ স্কিমে সম্মতি দেয় বিএসইসি।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ইন্ট্রাকোর আর্থিক হিসাব, রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি মূলত কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের মূল্যায়ন, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তব অবস্থার সঙ্গে কাগুজে তথ্যের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি কোনো তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না বা কোনো ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১.৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৮৮ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ২৪ পয়সা।

২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ৯ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০টি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩০.০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২২.২০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৭.৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে