ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

কেয়ামতের দিন যাদের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না

২০২৬ এপ্রিল ১০ ১১:৪৪:২৬
কেয়ামতের দিন যাদের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী আকিদা অনুযায়ী ঈমানের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো কেয়ামত দিবসে বিশ্বাস। সেই দিনে সমগ্র মানবজাতি মহান আল্লাহর দরবারে হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের আপনজন—সন্তান, পিতা-মাতা এমনকি নিকট আত্মীয়দের থেকেও দূরে সরে যাবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানুষ সেদিন নিজের নিকটাত্মীয়দের থেকে পালিয়ে বেড়াবে (সুরা আবাসা: ৩৪–৩৭)।

এমন কঠিন দিনে আল্লাহর রহমতই হবে মানুষের একমাত্র ভরসা। তবে হাদিসে এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাদের সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টি দেবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না।

সহিহ মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহসহ একাধিক হাদিসগ্রন্থে হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তিন ব্যক্তির সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”

১. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী ব্যক্তি

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে, তার প্রতি আল্লাহ দৃষ্টি দেবেন না। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, “লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, তা আগুনে দগ্ধ হবে।” (সহিহ বুখারি)

ইসলামিক স্কলার শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্ট—যে পোশাকই হোক, তা টাখনুর নিচে পরিধান করলে এ সতর্কতার আওতায় পড়তে পারে, বিশেষ করে অহংকারের সঙ্গে যুক্ত হলে।

২. মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রেতা

যে ব্যক্তি ব্যবসার স্বার্থে মিথ্যা শপথ করে, সে শুধু প্রতারণাই করে না, বরং আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “মিথ্যা শপথ পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করলেও তা বরকত নষ্ট করে।” (সহিহ মুসলিম)

এ ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য কেয়ামতের দিনে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।

৩. দান করে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি

যে ব্যক্তি কাউকে দান বা সাহায্য করার পর তাকে অপমান করে বা খোঁটা দেয়, তার আমল নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,“হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না।” (সুরা বাকারা: ২৬৪)

এ ধরনের আচরণ ইখলাস ও মানবিকতার পরিপন্থী এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।

ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ হলো—আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া, সম্মান হারানো, গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ না পাওয়া (তওবা ছাড়া) এবং কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হওয়া। এটি আখিরাতের অন্যতম ভয়াবহ বঞ্চনা হিসেবে বিবেচিত।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে