ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

ইন্দো-বাংলা ফার্মায় বড় অনিয়ম, কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২১:৪৩:৫৪
ইন্দো-বাংলা ফার্মায় বড় অনিয়ম, কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন, আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার এবং সামগ্রিক ব্যবসা পরিচালনায় নানা অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের একাধিক দৃষ্টান্ত পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বিএসইসি জানায়, কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যবহার, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে গত বছরের এপ্রিলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ম্যানেজার স্নেহাশিষ চক্রবর্তী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তদন্ত শেষে কমিশনে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ২০২০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচটি অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিশোধিত মূলধন, আইপিও তহবিলের ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে কমিশন আরও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিএসইসির প্রণয়নাধীন ‘প্যানেল অব অডিটরস’ সংক্রান্ত গাইডলাইনে নতুন শর্ত যুক্ত করা। ভবিষ্যতে নিরীক্ষকরা আন্তর্জাতিক হিসাবমান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধারা বা অনুচ্ছেদ উল্লেখ করতে বাধ্য থাকবেন।

একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন, বিধি, রুলস বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করে, তা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিভাগ থেকে আইন বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হবে।

এছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ অর্থাৎ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে তা ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আইপিও তহবিল ব্যবহারে জবাবদিহিতা বাড়াতে বিএসইসির এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয় এবং এতে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ০.১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩২ পয়সা, যা আগের বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩৫ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা ।

২০১৮ সালে শেয়ারববাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। এর পরিশোধিত মূলধন ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ১৭৮টি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ২৪.৪৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮.৭৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৬.৮১ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ লেনদেনে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে