ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

দুই বছর আগের ছবি এখন ভাঙছে মোদি-মমতার রাজনীতি!

২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:০৮:৪২
দুই বছর আগের ছবি এখন ভাঙছে মোদি-মমতার রাজনীতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি দার্জিলিং সফরে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-কে অভ্যর্থনা না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মোদির সমালোচনার জবাবে, মমতা একটি দুই বছর পুরনো ছবি জনসমক্ষে তুলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতা ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ লালকৃষ্ণ আডভানিকে ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের একটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করেন। ছবিতে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদি পাশে চেয়ারে বসে রয়েছেন। মমতা এই ছবিকে হাতিয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত সম্মান কতটুকু।

মুখ্যমন্ত্রী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটি আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করেন? তিনি একজন নারী এবং আদিবাসী নেত্রী। তাহলে রাষ্ট্রপতি কেন দাঁড়িয়ে আছেন আর আপনি কেন বসে আছেন?”

মমতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধার বড় বড় কথা বলেন, তখন এই ছবিই প্রমাণ করে কে আসলে সম্মান জানাচ্ছেন আর কে করছেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ভোটের সময় বাংলায় আসেন ‘ভোট পাখির’ মতো এবং যা খুশি তাই বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিজেপি রাষ্ট্রপতির সফরকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছে এবং দেশের সর্বোচ্চ পদ অপব্যবহার করছে।

গত শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে ভাষণের সময় তিনি আক্ষেপ করেন যে, তাকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।

রাষ্ট্রপতি মমতাকে তার ‘ছোট বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন,“আমি বাংলার মেয়ে হিসেবে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী কেন আসেননি, তা আমি জানি না।”

এছাড়া অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজ্য প্রশাসন সম্ভবত আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না।

রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির এই কষ্ট ভারতের মানুষের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।

মোদি আরও অভিযোগ করেন, যখন সারা দেশ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার একজন নারী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। তিনি এই ঘটনাকে সংবিধানের অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এক টুইটে জানান, অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল নামে একটি ব্যক্তিগত সংস্থা আয়োজন করেছিল। জেলা প্রশাসন থেকে লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো হয়েছিল যে, আয়োজক সংস্থাটি রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য অনুষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে না।

মমতা বলেন, রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী শিলিগুড়ির মেয়র এবং পুলিশ কমিশনার তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম ছিল না, তাই তিনি সেখানে যাননি।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে