ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

৫০ মাসের মধ্যে রেকর্ড আমানত, প্রবাসী আয়ে চাঙা ব্যাংকিং খাত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৮:০৬:৩৩
৫০ মাসের মধ্যে রেকর্ড আমানত, প্রবাসী আয়ে চাঙা ব্যাংকিং খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.১০ শতাংশে, যা গত ৫০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং আমানতের ওপর উচ্চ সুদহার এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯.৭৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ১৭.৭৬ লাখ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা জানিয়েছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি বেকারত্ব, রপ্তানি আয়ে স্থবিরতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতির মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমানত বেড়েছে মূলত প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এ পরিমাণ ছিল ২.৬৪ বিলিয়ন ডলার। সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে, যার পরিমাণ ছিল ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯-৬ সুদহার নীতি থেকে সরে আসে। এর ফলে আমানত ও ঋণের সুদহার উভয়ই বৃদ্ধি পায়। আগে আমানতকারীরা তুলনামূলক কম মুনাফা পেতেন, কিন্তু নীতির পরিবর্তনের পর ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রবণতা বেড়েছে।

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান জানান, বর্তমানে আমানতের সুদহার ৯ থেকে ৯.৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি। অন্যদিকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক আমানতের দিকে ঝুঁকছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.২৬ শতাংশ। এরপর তা ধারাবাহিকভাবে কমে যায় এবং টানা ১৭ মাস এক অঙ্কে অবস্থান করে। অবশেষে ২০২৫ সালের আগস্টে আবার দ্বিগুণ অঙ্কে ফিরে আসে।

এদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদের পরিমাণ সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের বাইরে মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৭৫ লাখ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ২.৭৬ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ কমেছে এক হাজার কোটির বেশি।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে