ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও জুলাই সনদের যেসব বিষয় বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ০৯:৪৮:১১
‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও জুলাই সনদের যেসব বিষয় বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদে উল্লেখিত সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৪৭টি ছিল সাংবিধানিক সংশোধন-সংক্রান্ত।

যদিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রস্তাবে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আনুষ্ঠানিক আপত্তি ছিল। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায়, এসব আপত্তিকৃত প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, যেসব প্রস্তাবে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলো বাস্তবায়নে তেমন বাধা দেখা যাওয়ার কথা নয়। তবে আপত্তিকৃত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে বিতর্ক এবং সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন প্রশ্নে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণভোটের প্রশ্নপত্রে উচ্চকক্ষ গঠনের ভিত্তি হিসেবে আনুপাতিক ভোটের হার উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএনপির ইশতেহার সরাসরি গণভোটে উপস্থাপিত হয়নি; কিন্তু উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে গঠনের বিষয়ে জনগণ সরাসরি মত দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও যেসব প্রস্তাবে বড় রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক আপত্তি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে—সংসদীয় কমিটিতে পুনরালোচনা হতে পারে, ভাষাগত বা কাঠামোগত সংশোধন আনা হতে পারে, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে আংশিক পরিবর্তন হতে পারে, অথবা নির্দিষ্ট প্রস্তাব কার্যত স্থগিত থাকতে পারে।

অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট জুলাই সনদের নীতিগত অনুমোদন দিলেও, বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংসদের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ঐকমত্যের ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে