ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৫:৫১:৪৪
জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু সেই অধিকার যখন জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়, তখন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি শুধু অনৈতিক কাজ নয়, বরং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। জাল ভোটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডের বিধান রয়েছে।

জাল ভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। যেমন—অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দেওয়া, ভোটার উপস্থিত না থাকলেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি বা জোর করে কাউকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা কিংবা একজন ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়া। সহজভাবে বলতে গেলে, যেখানে ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা অনুপস্থিত, সেখানেই জাল ভোটের অস্তিত্ব।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জাল ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জাল ভোট প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে নির্বাচনী অপরাধ ও বেআইনি আচরণের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, জাল ভোট বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভোটগ্রহণ চলাকালে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম ঘটনাস্থলেই অপরাধ বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—

কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া বা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তির সহায়তা গ্রহণ বা প্ররোচিত করা।

ভোট দেওয়ার অযোগ্য জেনেও ভোট প্রদান করা বা ব্যালট পেপার চাওয়া।

একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট দেওয়া বা ব্যালট পেপার চাওয়া।

একই নির্বাচনে একাধিক ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া।

ভোট চলাকালে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলা।

জেনে–শুনে অন্য কাউকে এসব কাজে প্ররোচিত করা বা সহায়তা করা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে