ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আইনি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় মোটর বীমা উপেক্ষিত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৫:২৬:১৯
আইনি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় মোটর বীমা উপেক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বছরজুড়ে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। সড়ক নিরাপত্তা যখন একটি জরুরি জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে, তখন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার কার্যকরী হাতিয়ার ‘থার্ড পার্টি বিমা’ বা মোটর বিমা রয়ে গেছে প্রায় অব্যবহৃত। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মোটর লায়বিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ পুনরায় চালু করলেও গত ছয় মাসে এর গ্রাহক সংখ্যা নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমাটি বাধ্যতামূলক না হওয়া এবং প্রিমিয়ামের উচ্চ হারই এর মূল বাধা।

নতুন এই বিমা পলিসি অনুযায়ী, কোনো বিমাকৃত যানবাহনের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি মৃত্যু, আঘাত বা সম্পত্তির ক্ষতির শিকার হলে বিমা কোম্পানি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হয়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া সম্পত্তির ক্ষতির জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং আইনি ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের পর ২০২০ সালে থার্ড পার্টি বিমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছিল, যা এই খাতকে স্থবির করে দেয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাধারণ মোটরসাইকেল চালক বা গাড়ি মালিকদের মধ্যে এই বিমা নিয়ে সচেতনতা একেবারেই কম। যারা জানেন, তারাও এটি কিনতে আগ্রহী নন কারণ এটি বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ গ্রাহকদের মতে, যেখানে দুর্ঘটনা এড়াতে সাবধানী ড্রাইভিং-ই যথেষ্ট মনে করা হয়, সেখানে মোটা অংকের প্রিমিয়াম দিয়ে বিমা করাকে তারা বাড়তি খরচ মনে করছেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১৫০ সিসি মোটরবাইকের জন্য ১ হাজার ৬ টাকা এবং ১,৩০০ সিসির প্রাইভেট কারের জন্য ২ হাজার ৭০ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অনেকের কাছেই বেশি মনে হচ্ছে।

বিমা কোম্পানিগুলোও এই পরিস্থিতিতে হতাশ। ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো জানাচ্ছে, বছরের প্রথম নয় মাসে তারা কোটি কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করলেও মোটর বিমা থেকে তাদের আয় শূন্য। কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের মতে, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় কেউ নিজ থেকে এই বিমা করতে আসছে না। এছাড়া ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ের বিষয় হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর কোনো আকর্ষণ নেই।

আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্বীকার করেছে যে, বিমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক সমিতির সাথে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বিমাটি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে বিমার ক্ষতিপূরণের সীমা বাড়ানো, দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং বিমাটিকে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এটি কেবল একটি কাগুজে পলিসি হিসেবেই রয়ে যাবে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে